জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ছাড়া জাতীয় নির্বাচন নয়: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:১৫ পিএম
জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ছাড়া জাতীয় নির্বাচন নয়: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জনগণের দাবি এখন গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আইনি মর্যাদা দেওয়া। সরকার যদি তা না করে, তাহলে আসন্ন নির্বাচনও হবে না।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পল্টনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত আট দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুরে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। পল্টন মোড় থেকে বায়তুল মোকাররম, কাকরাইল মোড় ও জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড়ে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা চাই ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন হোক। তবে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে সেই নির্বাচন হতে পারে না। জনগণ এখন গণভোট চায়, সনদ চায়,আইনি বৈধতা চায়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা ভদ্র ভাষায় কথা বলছি, দাবি আদায়ে হিমালয়ের মতো দৃঢ় থাকব। কারণ এটি জনগণের দাবি, কোনো দলের নয়। ফ্যাসিবাদের দাবি নয়।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু দল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে একমত হলেও এখন জুলাই সনদকে অবমূল্যায়ন করছে। “যদি কেউ গণতন্ত্রের ভিত্তি সনদকেই শ্রদ্ধা না করে, তারা জাতীয় নির্বাচনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবে কীভাবে?” প্রশ্ন রাখেন জামায়াতের আমির।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আইনি স্বীকৃতি ছাড়া নির্বাচন করা মানে গণতন্ত্রকে অস্বীকার করা। গণভোট আগে করতে হবে, তবেই নির্বাচন আইনি ভিত্তি পাবে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ভারতে পালাতে পেরেছে। কিন্তু নতুন করে যারা ফ্যাসিবাদী হতে চাইছেন, তাদের যাওয়ার জায়গা বঙ্গোপসাগর ছাড়া আর কোথাও থাকবে না।”

সমাবেশে অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর নেতারাও একমত পোষণ করে বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটই দেশের জনগণের সর্বসম্মত দাবি। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বাংলাদেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত— এক পক্ষ বাহাত্তরের সংবিধানের পক্ষে, অন্য পক্ষ জুলাই সনদের পক্ষে। তাই সবাইকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদকে আমরা কাগজের সনদ হিসেবে দেখি না। সরকারের আদেশে এর আইনি ভিত্তি দিতে হবে। অন্যথায় জনগণ তা মেনে নেবে না।”

খেলাফত মজলিসের আমির আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, “গণভোট নভেম্বরের মধ্যেই হতে হবে। নির্বাচনের আগে গণভোট না হলে সেটি জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।” একই সুরে নেজামে ইসলামী পার্টির আমির সারোয়ার কামাল আজিজী বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই পাঁচ দফা দাবি আদায় করব। এতে ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে।”

জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, “যে দল গণভোটের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে, তারাই আজ গণভোটে রাজি নয়। এটি জনগণকে অসম্মান করার শামিল।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চানসহ আট দলের শীর্ষ নেতারা।

সমাবেশ শেষে আট দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে মিলিত হয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান জামায়াতের আমির।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে