বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে একই দিনে চাকরিচ্যুত ৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৯ এএম
বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে একই দিনে চাকরিচ্যুত ৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার দিনেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হঠাৎ প্রজ্ঞাপন জারি করে ৪৩তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের তিন শিক্ষানবিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে চাকরিচ্যুত করেছে। বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা এ আদেশে কারণ উল্লেখ না থাকায় প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ফরিদপুরের সহকারী কমিশনার কাজী আরিফুর রহমান, বগুড়ার সহকারী কমিশনার অনুপ কুমার বিশ্বাস এবং পিরোজপুরের সহকারী কমিশনার নবমিতা সরকার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণরত অবস্থায় ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার সেই দিনেই তাদের সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জন্য ছিল পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা জানায়, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১ এর বিধি ৬(২)(এ) অনুযায়ী তিন কর্মকর্তার নিয়োগের অবসান ঘটানো হয়েছে। এ বিধিতে বলা আছে, শিক্ষানবিশকাল চলাকালে কোনো কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হলে পিএসসির পরামর্শ ছাড়াই সরকার নিয়োগ বাতিল করতে পারে। তবে কেন এই তিন কর্মকর্তাকে অযোগ্য বিবেচনা করা হলো, সে ব্যাখ্যা প্রজ্ঞাপনে নেই।

চাকরিচ্যুত দুই কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, তাদের কোনো কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। একজন বলেন, ছাত্রজীবনে হলে থাকার সময় রাজনৈতিক মিছিলে যেতে হয়েছে, কিন্তু সেটিকে অযোগ্যতার কারণ মানা হলে তা অন্যায়। ব্যক্তিগত জীবনে পরিবারে জটিল পরিস্থিতি চলার মাঝেই এ সিদ্ধান্ত তাকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।

জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, তিন কর্মকর্তার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে বুধবার, ১৯ নভেম্বর। একই দিনে তাদের চাকরি থেকে বিদায় জানানো হয়। এর আগে গত ২২ অক্টোবর, বুধবার বিসিএস ৪৩তম ব্যাচের চারজন শিক্ষানবিশ এএসপিকেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাকরিচ্যুত করেছিল। এতে প্রশাসন ক্যাডার এবং পুলিশ ক্যাডারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিষয়টি নিয়ে বিশিষ্ট লেখক ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া গেলেও অতীতে কারণবিহীন বরখাস্ত অনেক সময় আদালতে টেকেনি। তার মতে, কাউকে চাকরি থেকে সরাতে হলে কার্যত কারণ উল্লেখ থাকা প্রয়োজন, তা না হলে এটি ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১৩৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কর্মকর্তারা আদালতে ন্যায়বিচারের সুযোগ চাইতে পারেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, চাকরিকালীন সময়ে সরকারের কাছে তিন কর্মকর্তার কোনো আর্থিক পাওনা বকেয়া থাকলে তা পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩ অনুযায়ী আদায়যোগ্য হবে। তবে প্রশাসন অঙ্গন মনে করছে, ঘটনাটি ব্যাচভিত্তিক চলমান অসঙ্গত সিদ্ধান্তেরই আরেকটি উদাহরণ। নিয়োগের আগেও এ ব্যাচের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী বাদ পড়েছিলেন। পরবর্তীতে চাকরিরত অবস্থায় বিভিন্ন ক্যাডারে আরও কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হঠাৎ চাকরিচ্যুতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ মহলে প্রশ্ন উঠছে, নেপথ্যের প্রকৃত কারণ কি প্রশাসনের সামনে আসবে, নাকি আবারও এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নির্ধারণে আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে