কিশোরগঞ্জে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, দুর্ভোগে নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ

এফএনএস (মহিউদ্দিন লিটন; হাওর অঞ্চল, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৪:০৪ পিএম
কিশোরগঞ্জে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, দুর্ভোগে নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে আজ সোমবার সকালে নিকলীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, নিকলী, কুলিয়ারচর, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনে সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক সপ্তাহ যাবৎ টানা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতের কারণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্রমাগত তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া ও উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা  হিম বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী,  ছিন্নমূল, খেটে খাওয়া মানুষ ও যানবাহন চালকরা। রোববার কিশোরগঞ্জে তাপমাত্রা ছিল ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আদ্রতা রেকর্ড করা হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

ভোরের পর থেকে সকাল পর্যন্ত সড়ক, মাঠ ও নদীর ঘাট ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় দৃষ্টিসীমা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এর ফলে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে ও সতর্কভাবে চলাচল করতে দেখা যায়।

টানা কুয়াশা ও তীব্র শীতের প্রভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সকালে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। শীত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে বিশেষ করে দিনমজুর ও ছিন্নমূল মানুষকে  খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর থেকে শিশির বৃষ্টির মতো ঝরছে ঘন কুয়াশা এবং উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস,যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সিএনজি চালক  দুলাল বলেন,ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে সিএনজি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামনে ঠিকমতো দেখা যায় না, তবু যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে, দীর্ঘ সময় স্টিয়ারিং ধরে রাখতে কষ্ট হয়। তারপরও দায়িত্বের কথা ও জীবিকার কথা ভেবে সাবধানে গাড়ি চালাচ্ছি। ঘরে বালবাচ্চা না হলে, না খেয়ে মরবে। এই শীতে আমাদের কাজটা আরও কঠিন হয়ে গেছে।

বৃদ্ধ জিলহজ মিয়া (৬৮) বলেন, এই কনকনে শীতে আগুনের পাশে না থাকলে শরীর টেকে না। বয়স হয়েছে, ঠান্ডা আর সহ্য হয় না। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শীত লেগেই থাকে। আগুন পোহানোই এখন একমাত্র ভরসা। তবুও কী করবো, জীবন তো থেমে থাকে না। এই শীতে বয়স্ক মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।

অটোরিকশা চালক মেহেদী বলেন, এই তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় অটোরিকশা চালানো খুব কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঠান্ডা বাতাসে শরীর অবশ হয়ে আসে, চোখে পানি চলে আসে। তবু কাজের তাগিদে রাস্তায় বের হতে হয়েছে। কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই ঠিকমতো দেখা যায় না, তাই খুব সাবধানে চলতে হচ্ছে। শীতের এই সময়টাতে আমাদের কষ্ট অনেক বেড়ে গেছে।

এছাড়াও দেখা যায়, তীব্র শীতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ও অন্যান্য শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্র বলছে,কুয়াশা বেল্টের প্রভাব অব্যাহত  থাকলে দেশের উত্তর পূর্ব অঞ্চলে চলমান কুয়াশা বেল্টের উপস্থিতি জানুয়ারী প্রথম সপ্তাহ  পর্যন্ত থাকতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে