স্টক-লট বৈধ করার সিদ্ধান্ত

৬০ শতাংশ শুল্ক কমলো মোবাইল আমদানিতে

এফএনএস অনলাইন: | প্রকাশ: ২ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:১২ এএম
৬০ শতাংশ শুল্ক কমলো মোবাইল আমদানিতে
ছবি, সংগৃহিত

মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রায় ৬০ শতাংশ শুল্ক কমে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যা এখনকার শুল্কের প্রায় ৬০ শতাংশ কম। একই সঙ্গে বিটিআরসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি করা এবং বর্তমানে ব্যবসায়ীদের হাতে থাকা মোবাইল ফোনগুলোকে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই স্টক-লট হিসেবে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি)  এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ৫০ শতাংশ কম। সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈধ আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন উভয়ই উৎসাহিত হবে এবং বাজারে মোবাইল ফোনের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, বিটিআরসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি করা এবং বর্তমানে ব্যবসায়ীদের হাতে থাকা মোবাইল ফোনগুলোকে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই স্টক-লট হিসেবে এনইআইআর সিস্টেমে অনুমোদন দেওয়া হবে। অর্থাৎ বাজারে থাকা ফোনগুলোকে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

আমদানির বিপরীতে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার যুক্তিতে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আপত্তি থাকলেও বাস্তবতা বিবেচনায় কাস্টমস ডিউটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে।

জসিম উদ্দিন আরও জানান, প্রবাসীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশে ফেরার পর তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তিন মাস পর্যন্ত বন্ধ করা হবে না। কেউ তিন মাসের কম সময় দেশে অবস্থান করলে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হবে না। তিন মাসের বেশি অবস্থান করলে পরে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। একইসাথে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও আগামী তিন মাস মোবাইল ফোন ব্লক করা হবে না। একই সময়ে ব্যবসায়ীদের স্টক-লট নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হবে। এজন্য শুধু বিটিআরসিকে বৈধ হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তালিকা প্রদান করতে হবে।

বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে তারা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই রাষ্ট্রবিরোধী ও ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচারের আওতায় আনা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে