ইনকিলাব মঞ্চের শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর তৃতীয়বারের মতো রাজধানীর শাহবাগ চত্বর অবরোধ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। ইনক্লাব মঞ্চের সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ঘোষণা করেন, “আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যার প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত ও পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট দেওয়া না হলে দেশব্যাপী সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ-মিছিল শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সঙ্গে যদি কেউ বৈঠক করতে আসে, আপনারা অবশ্যই বৈঠক করবেন। কিন্তু সেই বৈঠক হতে হবে ওপেন। কোনো সিক্রেট বৈঠক নাই। দিল্লির সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন বৈঠক চলবে না।
‘বাংলাদেশের তিন পাশ থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, যার কারণে আমরা ভারতীয় আধিপত্যের বিপক্ষে কথা বলি। এখন যদি আমেরিকা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ খাটাইতে চায়, আমরা কি আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলব না? আমরা কি কারো কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দিয়ে দিব? না, দিব না। আমাদের এই লড়াইটা কেবলমাত্র শুরু’-জানান তিনি।
ওসমান হাদির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ওসমান হাদি হচ্ছে আমাদের এই লড়াইয়ের পথটা দেখিয়ে গেছেন। এখন আমাদের সেই অনুযায়ী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের কথা একটাই বাংলাদেশের সকল ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াইটা করবো।”
সমাবেশে আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, শরিফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ঘটনার ২১ দিন পার হলেও সরকার প্রকৃত খুনিদের ধরতে ব্যর্থ হয়েছে, যা সদিচ্ছার অভাবকেই ফুটিয়ে তোলে। ৭ জানুয়ারি শুধুমাত্র ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।