রাজশাহীতে ‘চাঁদাবাজ’ চান সওদাগরসহ দুই সহযোগী আটক

এম এম মামুন; রাজশাহী
| আপডেট: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম | প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
রাজশাহীতে ‘চাঁদাবাজ’ চান সওদাগরসহ দুই সহযোগী আটক
রাজশাহীর চিহ্নিত চাঁদাবাজ চান সওদাগরসহ দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশকিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার ( ১০ জানুয়ারি) তাদের আদালতে তোলা হয়।শুক্রবার দিবাগত রাতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এ তিনজনকে আটকের পর নগরীর রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করেন। গ্রেপ্তার চান সওদাগর নগরীর নতুন বিলশিমলা এলাকার বাসিন্দা। তার সঙ্গে আটক দুজন হলেন- একই এলাকার বাসিন্দা মুরাদ আলী (২৮) ও মো. বিদ্যুৎ (৩৭)। চান সওদাগর নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি পরিচয় দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি নগরের বোয়ালিয়া থানা ঘেরাও করেছিলেন তিনি। সেদিন সাংবাদিকদের এই পরিচয় দেন চান সওদাগর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, চান সওদাগরের নামে আগে থেকেই ১৮টি মামলা আছে। এরমধ্যে পাঁচটি মারামারি, দুটি অস্ত্র, দুটি বিস্ফোরক ও সরকারী সম্পদ বিনষ্টের দুটি মামলার আসামি তিনি। এছাড়া একটি করে মাদক, দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ, চুরি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার আসামি চান সওদাগর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করে আসছিলেন চান সওদাগর। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন নগরবাসী। গত বছরের জুলাই মাসে রাজশাহীতে ১২৩ জন ‘চাঁদাবাজের’ একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায় তালিকাটি তৈরি করেছিল পুলিশ। এই তালিকায় চান সওদাগরসহ ছয়জনের নামের পাশে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে জামায়াতে ইসলামী লেখা ছিল। তখন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দিন মন্ডল বলেছিলেন, ‘চান সওদাগরকে অনেক আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে।’ এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় মহানগর জামায়াতে ইসলামী। ওই সংবাদকে আজগুবি বলা হয়। তবে শনিবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরের সাংগঠনিক সেক্রেটারী জসিম উদ্দিন সরকার বলেছেন, ‘চান সওদাগর আমাদের মিছিল-মিটিংয়ে আসত। কিন্তু দলে তার কোনো পদ-পদবী নেই।’ চান সওদাগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, ‘এটাও দেখেন যে চান সওদাগর নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েছিল এই বলে যে কোনো সংগঠনে তার পদ-পদবী নেই।’ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে জেলে থাকা অবস্থায় চান সওদাগরের সঙ্গে আমার পরিচয়। আমাকে সম্মান করত। তখন শুনেছিলাম, বর্ণালী মোড়ে তার চায়ের দোকান আছে। কিছুক্ষণ আগে মহানগর শিবিরের সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলামকে একটা বিষয়ে ফোন করেছিলাম। তার কাছে শুনলাম যে চান সওদাগরকে সন্দেহমূলক আটক করা হয়েছে এবং তাকে পেটানো হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনে অভিযুক্ত চান সওদাগরের কোনো পদ-পদবী নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের ওয়ার্ড পর্যায়ে কোনো কমিটিও নেই। তবে থানা কমিটি আছে। থানা কমিটির অধীনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা ট্রেড ভিত্তিক কিছু কমিটি আছে।’ নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক শনিবার বিকেলে বলেন, ‘সেনাবাহিনী চান সওদাগরসহ তিনজনকে আটক করে থানায় দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলার হয়েছে।