ইরান ইস্যুতে নতুন চাপ, ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| আপডেট: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৯ এএম | প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
ইরান ইস্যুতে নতুন চাপ, ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর নতুন কৌশল হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। খবর বিবিসির।

ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যে কোনো দেশ ব্যবসা করলে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এই আদেশ চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়।” তবে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা বলতে ঠিক কোন ধরনের লেনদেন বোঝানো হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানো সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই এই ঘোষণা এসেছে। চলমান বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ২৮ ডিসেম্বর থেকে সহিংসতায় প্রায় ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী ৯ জন রয়েছে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের পথেও যেতে পারে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, বিমান হামলাসহ বিভিন্ন সামরিক বিকল্প এখনো ‘টেবিলে রয়েছে’।

বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত। তবে নতুন এই শুল্কে ঠিক কোন কোন দেশের আমদানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।

বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা পল অ্যাডামস মনে করছেন, ট্রাম্প এখন এক জটিল সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। একদিকে হুমকি বাস্তবায়ন না করলে তিনি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল দেখাতে পারেন, অন্যদিকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে তা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।