বগুড়ার গাবতলীতে মামলার স্বাক্ষী ও সাবেক এনজিও কর্মী আবু বক্কর সিদ্দিক হত্যার প্রতিবাদে, মামলার আসামিদের ফাঁসি ও পলাতকদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জাতহলিদা গ্রামবাসীর আয়োজনে স্থানীয় বুরুজ বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তাহেরুল ইসলাম, আনিকা তাবাসসুম সুচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আলী, মনিমুল আহসান পারভেজ, সেলিম, আতাউর রহমান, এরশাদ আলী, হারুনর রশিদ, বাবলু ফকির, বৃষ্টি, রিদয়ান সিদ্দিক, আপেল মাহমুদ, নিহত আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী রহিমা আক্তার বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গাবতলী মডেল থানায় বাদী হয়ে নারী পুরুষ সহ ৭ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি এজাহারে বলেছেন, গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের, জাতহলিদা মধ্যপাড়া গ্রামের পিতামৃত আজিজার রহমানের ছেলে আতাউর রহমানের সাথে, এজাহার ভুক্ত আসামীদের বাড়ীর সিমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। উক্ত বাড়ীর সিমানাকে কেন্দ্র করে আসামীরা এরশাদকে মারধর করে। উক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে ১৯ নভেম্বর ২০২৪ সাল আতাউর রহমান বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার নং-১৫, জি আর নং- ২৭৭/২৪। মামলায় বাদীনির স্বামী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিককে ১ নং স্বাক্ষী করা হয়। সে কারনে আসামী বাবুল মিয়া, মন্টু মিয়া, মামুন মিয়া ওরফে ঝন্টু, রুবি বেগম, মাজেদা বেগম, মিরাজুল ইসলাম লিখন ও হামিদুল ইসলাম গন বাদীনির স্বামীর উপর ক্ষিপ্ত ও পরিবারের সকল সদস্যদের ক্ষতিকরার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। ঘটনার দিন সোমবার (১২ জানুয়ারী) আসামীরা পুর্বপরিকল্পিতভাবে বিকেল সাড়ে ৪ টায় বাড়ীর সিমানা নিয়ে পুনরায় আতাউর রহমানের মেয়ে বৃষ্টি আকতার, শিফা বেগম, জেমি বেগম ঝগড়ার এক পর্যায়ে লাঠিসোঠা, রড দিয়ে বেদম মারপিট করে গুরুতর আহত কারে। ঘটনার বিষয় জানতে পেরে আতাউর রহমান বুরুজ বাজার থেকে, পুর্বের মামলার স্বাক্ষী আবু বক্কর সিদ্দিক সহ বিকেল ৫ টায় মোটরসাইকেল যোগে আতাউর রহমানের বাড়ির উঠানে দাঁড়ায়, সেখানে বাদীনি রহিমা আক্তার তার মেয়েকে সাথে নিয়ে এসে দাড়ায় । সেখানে মামলার আসামীগন পুর্বপরিকল্পনামতো আমার স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক ও আতাউর রহমানের উপর হত্যার উদ্দেশ্য আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামীরা বাদীনির স্বামীকে মোটরসাইকেল থেকে নেমে টেনে হেঁচড়ে পাশের জঙ্গলে নিয়েগিয়ে মাঘায় একাধিক আঘাত করে ফেটে মগজ বের করে গুরুতর আহত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় আবু বক্কর সিদ্দিকে উদ্ধার করে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদীনির স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিককে মৃত্যু ঘোষণা করে। আবু বক্কর সিদ্দিক হত্যার সাথে জড়িত আসামী মন্টু মিয়া, মামুন মিয়া ওরফে ঝন্টু ও মাজেদা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়। আসামী বাবুল মিয়া, রুবি বেগম , মিরাজুল ইসলাম লিখন, হামিদুল ইসলাম পালিয়ে যায়। মানববন্ধন থেকে আসিমীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা।