গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর থেকেই বিএনপি উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব, আর কৃষির উন্নতি হলে দেশও এগিয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “হাসিনার আমলে আমরা কাজ করতে পারিনি, পালানোর পর আমরা উন্নয়নের কাজ শুরু করেছি। আগে ১০০ টাকা আয় হতো, এখন ২০০ টাকা আয় করাকে উন্নয়ন বলে। কর্মসংস্থান হলে মানুষের উন্নয়ন হবে। যদি কৃষির উন্নতি হয় তাহলে আমাদের উন্নতি হবে।”
আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করবে। তাঁর কথায়, “আগামী ভোটে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা ভুল করব। বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।” এ সময় তিনি তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়েও বক্তব্য দেন। বলেন, “তারেক জিয়াকে দেশে আসতে দেননি ১৮ বছর। যেদিন প্রথম আসলেন, সেদিন লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল।”
তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান প্রথম দিনই উন্নয়নের একটি স্পষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেছেন। “তার পরিকল্পনা হলো উন্নয়নের পরিকল্পনা। আমাদের মায়েদের উন্নতি করতে চায়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সার-বিষ পাওয়া যাবে। মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে,” বলেন তিনি।
সমাবেশে জামায়াতকে লক্ষ্য করেও কড়া বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে পাকবাহিনী অনেক অত্যাচার করেছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। পাক সেনাদের কারা সহযোগিতা করেছিল, সেটাও আমরা জানি। আগে ৭১ সালের জন্য মাফ চান, তারপর ভোট চান।”