আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৩৯ জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে নির্বাচনী শেষ মুহূর্তের উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধান দুই জোটের প্রার্থীরা। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে হাটবাজারে পথসভা,পাড়ায় মহল্লায় উঠান বৈঠক, গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীসহ দলীয় নেতা-কর্মী সমর্থকরা ভোটারদের দোয়ারে-দোয়ারে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে,ততই যেন ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়িয়ে তৎপরতায় মুখর হয়ে উঠেছে। এ আসনটি ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ইসলামপুর উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১লাখ ৪৪ হাজার ৪৬৯জন ,নারী ভোটার ১লাখ ৩৭হাজার ৬৩৩জন এবংতৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১জন। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ১০৩ জন। এই আসনে মোট ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ডিতা করছেন। তার মধ্যে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানেরশীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দাড়িপাল্লা নিয়ে মাঠে নেমেছেন ড.সামিউল হক ফারুকী,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতিক নিয়ে মাওলানা সুলতান মাহমুদ সিরাজি, এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খান ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আসনে নির্বাচনী দৌড়ে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত ইসলামী শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভৌগোলিক অবস্থান থেকে ইসলামপুর উপজেলাটি তিনটি অংশে বিভক্ত-ব্রহ্মপুত্র নদ সংলগ্ন পূর্বাঞ্চল, যমুনা নদীর দ্বীপচর নিয়ে গঠিত পশ্চিমাঞ্চল এবং তিনটি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মধ্যাঞ্চল। স্থানীয় ভোটার এবং বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যাঞ্চলের ভোট এ আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পূর্বাঞ্চলের চারটি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবুর রয়েছে শক্তিশালী ভোট ব্যাংক। বিপরীতে পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী সামিউল হক ফারুকী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয়দের ধারণা ভোটার সংখ্যার দিক থেকে পশ্চিমাঞ্চলের তোলনায় পূর্বাঞ্চলে ভোটার সংখ্যা বেশী থাকায় বিএনপি প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক ভাবে বেশি। তবে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীও পূর্বাঞ্চলে জোরালো প্রচারণা চালিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সর্বোপরি এ অসনটি স্বাধীনতার পর থেকে ৯বার আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। তাই অওয়ামীলীগের ভোট যেদিকে যাবে-সেদিকেই ভোটের পাল্লা ভারী হবে। তাই আওয়ামীলীগের ভোটের দিকে নজর রাখছেন উভয় প্রার্থী। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর নীরব ভোটব্যাংক রয়েছে যা ভোটের দিন বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আলোচনা চলছে-২০২৬ সালের নির্বাচনে এই আসনে জামায়াত ইসলামী বড় ধরনের চমক দেখাতে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আসনে নির্বাচনী দৌড়ে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা হাড়্ড়ি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কে হারে কে জিতে দেখা যাবে ভোট গননার পর।