বরিশাল-৪ আসনের মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাট থানার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের পূর্ব আন্ধার মানিক (কলকুঠি) মাদরাসার সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাতজন কর্মী গুরুত্বর আহত হয়েছেন। এসময় ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ওই আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সৈয়দ গুলজার আলম লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শেষদিন (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আন্দারমানিক ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে দাঁড়িপাল্লার নেতাকর্মীরা ইউনিয়নের ৩ নন্বর ওয়ার্ডের কলকুঠি মাদরাসা এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এসময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদেরকে প্রচারণায় বাঁধা প্রদান করে। এনিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে ঘটনাস্থলের পাশে বিএনপি অফিসের মধ্য থেকে লাঠিসোটা এনে বিএনপির কর্মীরা তাদের উপরে বেধরক হামলা চালায়। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বিএনপি কর্মী মোফাজ্জেল দেওয়ান, মোহাম্মদ আলী, আয়নাল মাঝি, আনোয়ার হাওলাদারের নেতৃত্বে তাদের ২৫/৩০ জন সহযোগিরা হামলা চালায়। এসময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাথে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালে ফেলে দেয় এবং একটি মোটরসাইকেল হামলাকারীরা নিয়ে যায়। সৈয়দ গুলজার আলম লিখিত বক্তব্যে বলেন, হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে একজনের পা ভেঙ্গে যায়। বাকিদের মাথায় গুরুত্বর আঘাতপ্রাপ্ত হন। আহত কয়েকজন পাশের দোকানে ও বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেনাবাহিনীকে ফোন দিলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে আহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের মধ্যে দুইজনকে গুরুত্বর অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি পাঁচজনকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের কর্মী মোহাম্মদ আলী, বেলাল দাই, নাসির মৃধা, দুলাল খান, জুলহাস সিকদার, মফিজ হাওলাদার, শহিদ বিশ্বাস, মুনছুর মিয়া, মনির দেওয়ান, আল-আমিন খান, নূরুল ইসলাম, মোজাম হাওলাদার, আলাউদ্দিন আলী রানা, নাসির উজ্জ্বলসহ তাদের ১৫/২০ জন সন্ত্রাসীরা আমাদের নারী কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছিল। সে ঘটনায় তখন কাজিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল কিন্তু পুলিশ রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পুনরায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এহেন কাজ নিশ্চিতরূপে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দরা, হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হামলাকারীদের জরুরি ভিত্তিত্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরোচিফ শাহে আলম, নির্বাচনী মিডিয়া কমিটির সমন্বয়ক মুজাহিদুল ইসলাম ইউসুফ, সালেহ উদ্দিনসহ জামায়াতে ইসলামীর অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।