গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলনের নির্বাচনী প্রচারণার শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনসভা সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে দুপুর থেকেই আশপাশের এলাকা থেকে দলে দলে মানুষের ঢল নামতে থাকে। বিকেল গড়াতেই কালীগঞ্জ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। সভামঞ্চ ও আশপাশের পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে যায় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে। মানুষের উচ্ছ্বাস, স্লোগান ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘদিন পর এমন জনসমাগম কালীগঞ্জে দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর পর একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রত্যাশিত নির্বাচনের মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ। এই বিজয়ের মধ্য দিয়েই আগামী দিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে। এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার নির্বাচন নয়, এবারের নির্বাচন হবে দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন। অতীতে এ বাংলাদেশ থেকে সেনা শাসন প্রতিরোধ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সৈনিক হিসেবে যারা জীবনবাজি রেখে গণতন্ত্র, বহু দলীয় গণতন্ত্র এবং পার্লামেন্টরী গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিল তাদের সম্মুখ সারিতে ছিলেন আপনাদের প্রিয় মানুষ আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন। বিশাল জনসমুদে ড. মঈন খান বিএনপি প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলনের হাত উঁচু করে বলেন, “একেএম ফজলুল হক মিলনকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে সঠিকভাবে আগলে রাখবেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেবেন। আমরা আগামী পাঁচ বছর আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের দেখে রাখব -ইনশাআল্লাহ।” উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ, পুবাইল ও বাড়ীয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান এ সব বলেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলুা এর সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ফজলুল হক মিলনকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ১৩ তারিখ থেকে নির্বাচিত এমপি হিসেবে ফজলুল হক মিলন আপনাদের দায়িত্ব নেবে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন।
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, গণমানুষের এই ভালোবাসা ও বিশাল উপস্থিতি আমাকে অভিভূত করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী আপনাদের ভোট ও সমর্থন দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করার জন্য অনুরোধ জানাই। কালীগঞ্জের মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তা আমি আজীবন মনে রাখব। আপনাদের আস্থা ও শক্তি নিয়েই আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। জনগণের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে তিনি সব সময় সোচ্চার থাকবেন বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাষ্টারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন এর সহধর্মিনী সম্পা হক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য ওমর ফারুক শাফিন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহ, সোলায়মান আলম, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফর রহমান, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী (শাওন), জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন মোল্লা প্রমূখ।
শেষ নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উদ্দীপনা ও আবেগ। অনেকেই বলেন, এই জনসমাগমই প্রমাণ করে জনগণ একেএম ফজলুল হক মিলনের পাশে রয়েছে। সভা শেষে সমর্থকদের স্লোগান ও মিছিলের মধ্য দিয়ে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে, ইটনায় ফজলুর রহমানের শেষ নির্বাচনী জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয় এটি পরিণত হয়েছিল জনতার ভালোবাসা ও প্রত্যাশার এক শক্তিশালী প্রকাশে।