কিশোরগঞ্জে ৬টি আসনে

৪৮ প্রার্থীকে ২৭ লাখ ২৭ হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
৪৮ প্রার্থীকে ২৭ লাখ ২৭ হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার ৬টি আসনের ৪৮ প্রার্থীকে ২৭ লাখ ২৭ হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কমিশনের সুত্রে জানা গেছে, জেলায় পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৫ জন, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৭ জন এবং হিজরা ভোটার রয়েছে ২৮ জন। কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ২৭ লাখ ২৭ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। জেলায় ৯১৩টি ভোট কেন্দ্রে ৫ হাজার ১০৫টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৪০ জন দলীয় এবং ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৩৭ জন। এই আসনে রয়েছে ১৮১টি ভোট কেন্দ্র এবং ১ হাজার ১৮টি ভোট কক্ষ, যার মধ্যে ২৩টি অস্থায়ী। এখানে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘মোরগ’ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সাবেক ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: রেজাউল করিম খান চুন্নু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ‘রিকশা’ প্রতীকে দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী, খেলাফত মজলিস থেকে হেফাজতের  কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীকে শাইখুল হাদীস মাওলানা আহাম্মদ আলী, বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে ‘কাচি’ প্রতীকে আলাল মিয়া, এনপিপি থেকে ‘আম’ প্রতীকে তারেক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, সিপিবি থেকে ‘কাস্তে’ প্রতীকে মো. এনামুল হক, বাসদ থেকে ‘মই’ প্রতীকে মো. মাসুদ মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে  মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩২ হাজার ৫১৬ জন। এখানে ১৭০টি ভোট কেন্দ্র ও ৯৮৮টি ভোট কক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে ৫১টি অস্থায়ী। এই আসনে বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. মো. জালাল উদ্দীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল, জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মো. আফজাল হোসেন ভূইয়া, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে আবুল বাশার রেজওয়ান, বিএনএফ থেকে ‘টেলিভিশন’ প্রতীকে বিল্লাল হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ময়ূর’ প্রতীকে মো. আনিসুজ্জামান খোকন ও ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে নুর উদ্দিন আহমদ নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৫ জন। এই আসনে রয়েছে ১৫১টি ভোট কেন্দ্র ও ৮২৩টি ভোট কক্ষ, যার মধ্যে ১৬টি অস্থায়ী। এখানে বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ ওসমান ফারুক, জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে দলটি কেন্দ্রীয় কমিটির শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে মো. আলমগীর হোসাইন, এনপিপি থেকে ‘আম’ প্রতীকে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, গণতান্ত্রিক পার্টি থেকে ‘কবুতর’ প্রতীকে দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীকে এবিএম আলমগীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

হাওর এলাকা কিশোরগঞ্জ-৪(ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৩৫২ জন। এখানে ১৫০টি ভোট কেন্দ্র ও ৭৯৬টি ভোট কক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে ৩০টি অস্থায়ী। এই আসনে বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাড. ফজলুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য অ্যাড. মো. রোকন রেজা শেখ, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে অ্যাড. বিল্লাল আহমেদ মজুমদার, ইনসানিয়াত বিপ্লব থেকে ‘আপেল’ প্রতীকে নুরুল ইসলাম, এনপিপি থেকে ‘আম’ প্রতীকে মো. জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ‘রিকশা’ প্রতীকে খাইরুল ইসলাম ঠাকুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীকে ডা. শাহীন রাজা চৌধুরী ও ‘ফুটবল’ প্রতীকে কাজী রেহা কবির সিগমা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ-৫(নিকলী-বাজিতপুর) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৬ জন। এখানে রয়েছে ১১৯টি ভোট কেন্দ্র ও ৬৬৪টি ভোট কক্ষ, যার মধ্যে ৫৮টি অস্থায়ী। এই আসনে বিএনপি থেকে ধানের ‘শীষ প্রতীকে’ সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা, জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ও ‘হরিণ’ প্রতীকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান কাইয়ুম, মুসলিম লীগ থেকে ‘হারিকেন’ প্রতীকে মো. সাজ্জাদ হোসেন, ইসলামী ফ্রন্ট থেকে ‘মোমবাতি’ প্রতীকে মো. অলি উল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মো. মাহবুবুল আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮০৪ জন। এই আসনে রয়েছে ১৪২টি ভোট কেন্দ্র ও ৮১৬টি ভোট কক্ষ, যার মধ্যে ১২টি অস্থায়ী। নয়জন প্রার্থীর অংশগ্রহণে এটি জেলায় সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখানে বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম, খেলাফত মজলিস থেকে ‘রিকশা’ প্রতীকে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, ইনসানিয়াত বিপ্লব থেকে ‘আপেল’ প্রতীকে নাঈমুল হাসান, জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে মোহাম্মদ মুসা খান, ইসলামী ফ্রন্ট থেকে ‘মোমবাতি’ প্রতীকে মো. রুবেল হোসেন, গণফোরাম থেকে ‘সূর্য’ প্রতীকে শাফি উদ্দিন আহম্মদ এবং সিপিবি থেকে ‘কাস্তে’ প্রতীকে মোহাম্মদ হাবিল মিয়া নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে