ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “জাতিকে দেওয়া ওয়াদা আমরা পূরণ করতে পেরেছি।” একই সঙ্গে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদজুমা সারা দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের ফলাফল পরিবেশন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সিইসি এ মন্তব্য করেন। এর আগে একই দিন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, ভোটারসহ দেশবাসীর প্রতি তারা কৃতজ্ঞ।
সিইসি বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে পারফেক্ট বলব না। তবে অতীতের তুলনায় যেকোনো মানদণ্ডে এই নির্বাচন ভালো হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। ১৮ কোটি ভোটারের দেশ। আপনাদের সহযোগিতা না হলে এই সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারতাম না।”
ফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট যুক্ত থাকায় গণনায় সময় লাগছে। “আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছ থাকতে চাই। লুকোচুরিতে বিশ্বাস করি না,” বলেন সিইসি। তিনি স্পষ্ট করে দেন, শুধুমাত্র রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত আনুষ্ঠানিক ফলাফলই কমিশন প্রকাশ করবে। কোনো বেসরকারি বা অসমর্থিত ফল গ্রহণ করা হবে না।
সিইসি দাবি করেন, “অতীতের ইতিহাসের তুলনায় এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।” তার ভাষায়, প্রায় ১৭ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এই বিশাল কর্মযজ্ঞে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদজুমা সারা দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, কমিশনের এই অবস্থান ও প্রকাশ্য ব্রিফিং প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে আস্থা তৈরির একটি প্রচেষ্টা। এখন চূড়ান্ত ফলাফল ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়।