ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন চরমোনাই পীরের ভাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
তেমনি বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা) আসন থেকে প্রতিদ্বন্ধিতা করে পরাজিত হয়েছেন চরমোনাই পীরের আরেক ভাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী বরিশাল-৫ আসনের মোট ১৭৬টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এই আসনে মজিবুর রহমান সরোয়ার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
বরিশাল-৬ আসনেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি ফয়জুল করীম। ওই আসনের মোট ১১৩টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বরিশাল জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট।
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে মনে করছেন ভোটাররা।
সূত্রে আরও জানা গেছে, বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা) আসন থেকে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন চরমোনাই পীরের আরেক ভাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের।
বরিশাল-৪ আসনের সর্বমোট ১৪৯টি ভোট কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ওই আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী রাজীব আহসান ১ লাখ ২৭ হাজর ১৯২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭২ হাজার ৭৯২ ভোট।
আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা মার্কার প্রার্থী ও দলের সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫০০ ভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির শক্ত সাংগঠনিক কাঠামো ও স্থানীয় গতিশীলতার কারণে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি ইসলামীক দলগুলোর ভোট এক বাক্সে না পরাও একটি বড় বাঁধা ছিলো বলে সচেতন নাগরিকরা উল্লেখ করেন।