মুলাদীতে

দাওয়াত না দেওয়ায় হামলা-সংঘর্ষ, আহত ২২

এফএনএস (মোঃ আরিফুল হক তারেক; মুলাদী, বরিশাল) : | প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
দাওয়াত না দেওয়ায় হামলা-সংঘর্ষ, আহত ২২

বরিশালের মুলাদীতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে ২২ জন আহত হয়েছে। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়নের দড়িচর লক্ষ্ণীপুর গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৪জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকেরা। সংবাদ পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরাফাত জাহান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সাকায়েত মল্লিকের ছেলের জন্মদিনে বিএনপির এক পক্ষকে দাওয়াত দেওয়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মল্লিক ও তার ছেলে ইমন মল্লিকের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আহতরা। তবে কবির হোসেন মল্লিক হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আহত স্বপন মল্লিক জানান, মুলাদী সদর ইউপি সদস্য সাকায়েত মল্লিকের ছেলে আল ইকরামের তৃতীয় জন্মদিন রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি)। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মোল্লা ও তার লোকজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। একই বাড়ির লোক হওয়ায় সত্ত্বেও বিএনপি নেতা কবির মল্লিক ও তার লোকজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এতে তিনি (কবির মল্লিক) ক্ষিপ্ত হন। শনিবার সকাল থেকে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের জন্য বাড়ির মধ্যে শামিয়ানা টানিয়ে চেয়ার-টেবিল বসানোর কাজ চলছিলো।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কবির মল্লিক ও তার ছেলে ইমন মল্লিক ৪-৫জন লোক নিয়ে সাকায়েত মল্লিককে খোঁজ করেন। তাকে না পেয়ে স্বপন মল্লিক ও মনির মল্লিকের কাছে বাড়িতে শামিয়ানা টাঙানো ও চেয়ার-টেবিল বসানোর বিষয়টি জানতে চান এবং সেগুলো সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। এনিয়ে কথার কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বপন মল্লিক ও মনির মল্লিককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেন কবির মল্লিকের লোকজন। সংবাদ পেয়ে স্বপন মল্লিকের লোকজন সেখানে পৌছলে দুই পক্ষ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে স্বপন মল্লিকের পক্ষের সাকায়েত মল্লিক, মনির মল্লিক, স্বপন মল্লিক, ফাইমা বেগম, রাজিব মল্লিক, কছির মল্লিক, সাইমুম মোল্লা, তন্নী বেগমসহ ১২জন আহত হন। কবির হোসেন মল্লিক পক্ষের মেজবা মল্লিক, আব্দুর রব মল্লিক, মিজান মল্লিক, মিন্টু মল্লিকসহ কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়। কবির হোসেন মল্লিকের আহত লোকজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন আবু বকর মল্লিক নামের এক ভ্যান চালককে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মিন্টু মল্লিক। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।  মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, আহতদের মধ্যে মনির মল্লিক, মিজান মল্লিক, মেজবা মল্লিকসহ ৪জনকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের মুলাদী হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।  সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য কবির হোসেন মল্লিক বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নব্য বিএনপি নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ-যুবলীগের লোকজন নিয়ে আমার লোকজনের ওপর হামলা করে। আমার লোকজন প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।’ মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, জন্মদিনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে একই বাড়ির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এঘটনায় শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।