প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীক নিয়ে বরিশাল বিভাগের বরগুনা-১ আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া মো. অলি উল্লাহ। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যান্য আসনে দলটির প্রার্থী থাকলেও বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন মো. অলি উল্লাহ। তিনি বরগুনা-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লাকে ৪ হাজার ১৭৫ ভোটে হারিয়েছেন। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৬ ভোট। দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলো এক হয়ে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন এবং গণভোট আলাদা দিনে করার দাবিতে একজোট হয়ে যুগপৎ আন্দোলনে নামে। এরপর সিদ্ধান্ত হয় জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের টানাপোড়েন দেখা দেয়। শেষপর্যন্ত জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ২৫৮ আসনে প্রার্থী দেয় দলটি।
এরমধ্যে শুধুমাত্র বরগুনা-১ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন দলের মনোনীত প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ। যেকারণে প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন দলটির নির্বাচিত এমপি। সূত্রে আরও জানা গেছে, ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে একটি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের জন্ম। দলটির সূচনা হয়েছিল ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ। পরবর্তীকালে মতভেদ ও বিভক্তির প্রেক্ষাপটে এটি পীর সাহেব চরমোনাই সৈয়দ ফজলুল করীমের নেতৃত্বে একটি পৃথক রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়।
১৯৯১ সাল থেকে দলটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে সক্রিয় হয়। ২০০৮ সালে নাম পরিবর্তন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয় দলটি। সেই থেকেই দলটির প্রতীক হাতপাখা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২৫৮ আসনে প্রার্থী দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এরমধ্যে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। যদিও তিনি দুটি আসনে পরাজিত হয়েছেন। বরিশাল নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, বরিশাল-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। আর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
বরিশাল-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তুলতে পারেননি ফয়জুল করীম। এ আসনে মোট ১১৩ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহমুদুন্নবী তালুকদার। তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। আর মুফতী ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। একইভাবে চরমোনাই পীরের আরো দুইভাই সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এরমধ্যে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজিরহাট) আসনে প্রার্থী ছিলেন মুফতী সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব এবং বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী তিনি পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৫৩ ভোট। একই আসনের বিজয়ী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী রাজীব আহসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
ঢাকা-৪ আসনে প্রার্থী ছিলেন চরমোনাই পীরের আরেক ভাই মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ, যিনি আল মাদানী নামে পরিচিত। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ। ওই আসনে মোট ভোটের মধ্যে কাস্টিং ভোট ৪৫ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ওই আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে হাতপাখা প্রতীকে মোসাদ্দেক বিল্লাহ পেয়েছেন মাত্র ছয় হাজার ৫১৮ ভোট। যেখানে তার জামানতও রক্ষা হয়নি।