নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া আস্থার জোয়ারে দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্থান দেখল দেশের পুঁজিবাজার। রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক একদিনেই ২০০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬০০ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে। লেনদেনও বেড়ে এক হাজার ২৭২ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকে ছিল তেজি গতি। বেলা সাড়ে ১২টায় সূচক উঠে যায় ৫ হাজার ৫৯২ পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১৯২ পয়েন্ট বেশি। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে সূচক সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬১১ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে ওঠে। দিন শেষে ২০০ পয়েন্ট যোগ হয়ে সূচক থামে ৫ হাজার ৬০০ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৬ অগাস্ট ১৯৭ পয়েন্ট বেড়ে সূচক দাঁড়িয়েছিল ৫ হাজার ৪২৬ দশমিক ৪২ পয়েন্টে। সেদিন লেনদেন হয়েছিল ৭৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর দুদিন পর ৮ অগাস্ট ৩০৬ পয়েন্ট বেড়ে সূচক পৌঁছায় ৫ হাজার ৯২৪ দশমিক ৮১ পয়েন্টে। এরপর মাঝে মাঝে উত্থান এলেও একদিনে ২০০ পয়েন্ট বাড়ার নজির আর দেখা যায়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে বাজারে ছিল টালমাটাল অবস্থা। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিএনপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার সরকার গঠনের কথা রয়েছে। এর আগেই বাজারে বড় উত্থান দেখা গেল।
ভোটের আগে গত মঙ্গলবার সূচক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টে ওঠে। তার আগের দিন সূচক ছিল ৫ হাজার ৩১২ পয়েন্ট, সেদিনও বেড়েছিল ৮৩ পয়েন্ট। ধারাবাহিক এই উত্থান নির্বাচনের পর আরও জোরালো হলো।
রোববার কেনার চাপে লেনদেন শেষে ৩৯৪টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৪টির, কমেছে ২৬টির, অপরিবর্তিত ছিল ৪টির। মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৭২ কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ৯ সেপ্টেম্বর, সেদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৭৮ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক লেনদেনে এগিয়ে ছিল ব্যাংক খাত। মোট লেনদেনের ২৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বা ৩৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার অবদান এই খাতের। এরপর ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৭৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং বস্ত্র খাতে ১৫৫ কোটি ১১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। দিনের হিসেবে বস্ত্র খাতেই দরবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি।
দিন শেষে দরবৃদ্ধিতে শীর্ষে উঠে আসে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি। সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় গিয়ে শেয়ারদর ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮ টাকা ৮০ পয়সায়। আগের দিন দর ছিল ৮ টাকা। প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল মুন্নু ফেব্রিকস লিমিটেড। শেয়ারটি ২৪ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়, যা আগের দিনের ২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি, যার শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। শেয়ারটির দর কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ।
অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এও উত্থান দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক ৪৮৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫১৮ পয়েন্টে। সেখানে ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ২২০টির, কমেছে ১৭টির, অপরিবর্তিত ছিল ১০টির। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৫ কোটি টাকা বেশি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ার ইঙ্গিতেই বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে যে গতি তৈরি হয়েছিল, ভোটের পর তা আরও জোরালো হয়েছে। এখন নজর থাকবে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক নীতির দিকে।