নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। তবে পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক কর্মসূচির কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকছেন না।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অংশ নেবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অংশগ্রহণ দুই দেশের জনগণের মধ্যে দৃঢ় ও স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। একইসঙ্গে এটি ভারত ও বাংলাদেশের বিদ্যমান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের নিদর্শন।
ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিদল যোগ দেবে। একই দিনে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনুষ্ঠানে না আসার বিষয়ে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে আয়োজিত ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নেওয়ার সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। ওই সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁসহ প্রায় ২০ দেশের শীর্ষ নেতা অংশ নিচ্ছেন। এ কারণে মোদির পরিবর্তে ওম বিড়লা ও বিক্রম মিশ্রি ঢাকায় আসছেন।
এদিকে শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত সরকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে স্বাগত জানায়। তাদের ভাষায়, “এই অংশগ্রহণ দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন।”
শপথ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণকে নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও কূটনৈতিক গুরুত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।