ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে নতুন সরকার। মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। প্রধানমন্ত্রীসহ ৫০ সদস্যের এ মন্ত্রিসভায় থাকছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি জোট। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা হয়। এর মধ্যে ২১২টিতে জয় পায় বিএনপি জোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোট পায় ৭৭টি আসন, আর স্বতন্ত্র ও অন্যরা মিলে পায় ৮টি আসন।
ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেন। পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিজয়ীরা শপথ গ্রহণ করেন। এরপরই শুরু হয় মন্ত্রিসভা গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, শপথের পরপরই দফতর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ ও খলিলুর রহমান।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, রাজিব আহসান, আজিজুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মো. আমিনুল হক।
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্ধারণ করবেন সেভাবে অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। একই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের কমপক্ষে দশভাগের নয়ভাগ সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে। সর্বোচ্চ দশভাগের একভাগ টেকনোক্র্যাট হিসেবে মনোনীত করা যেতে পারে।
রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। শপথ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আগের মন্ত্রিসভাই দায়িত্বে থাকবে।
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি। নতুন সরকারের যাত্রা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।