রমজানকে সামনে রেখে ফলের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:১১ পিএম
রমজানকে সামনে রেখে ফলের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে বরিশালের ফলের বাজারে বেড়েছে পণ্যের চাহিদা।  আর সেই সুযোগে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের ফলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। রমজানে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর। কিন্তু সেই খেজুরই এখন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খোলা খেজুর যা কয়েকদিন আগেও ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। বরিশালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মরিয়ম খেজুরের কেজি ১২০০ টাকা, খুরমা খেজুর ২৮০ টাকা, জাহেদী খেজুর ৩২০ টাকা, নাগাল খেজুর ৪০০ টাকা, বড়ই খেজুর ৫০০ টাকা, গাবাজ খেজুর ৫০০ টাকা, ছড়া খেজুর ৬০০ টাকা, কামরাঙা খেজুর ৬০০ টাকা, কালমি খেজুর ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানে এসব দামে খেজুর পাওয়া গেলেও শপিং সেন্টার ও অভিজাত দোকানে দাম আরও বেশি। অপরদিকে আজোয়া ও মাবরুম খেজুর কেজিপ্রতি ১৮০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বরিশাল নগরীর পোর্টরোড বাজারে ৪০০ টাকা কেজি দরে ঝুটা আঙ্গুরও কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। বাজারঘুরে দেখা গেছে, বাজারে কালো আঙ্গুর ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি, সাদা আঙ্গুর ৪০০ টাকা, মাল্টা ৩২০ টাকা কেজি, কমলা ২৭০ টাকা কেজি, আনার ৪৫০ টাকা, আপেল ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান আসলেই বাজারে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়। ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, গরিবের খেজুর এখন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ফলের দামে আগুন। অনেকেই হয়তো ফল ছাড়াই ইফতার করবেন। আরেক ক্রেতা রহিম সাবু জানান, সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার ওপর রমজানের বাড়তি খরচ চাপ সৃষ্টি করছে। লঞ্চঘাট এলাকার ফল ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর সবধরনের খেজুরে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়ছে। নগরীর ফলপট্টির ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, রমজান সামনে রেখে চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, আসন্ন মাহে রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং হিসেবে প্রতিদিন আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে। তিনি আরও বলেন, আসলে রমজান আসলেই কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। রমজানে কোনো পণ্যের দাম বাড়তি নিলে যথাযথ আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে