ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বিসিসির এনেক্স ভবন

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বিসিসির এনেক্স ভবন

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্ধিত অফিস কার্যালয় ছিলো বিবির পুকুর পাড়ের ‘এনেক্স ভবন’। ওই ভবনের নিচতলায় ছিলো জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং বিদ্যুৎ অফিস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুড়ে যাওয়া ভবনটি অদ্যবর্ধি সংস্কারে তেমন কোন কার্যকরি উদ্যোগ চোখে পরেনি। ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বিসিসির মালিকানাধীন এনেক্স ভবনটি। তবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের দাবি, তারা এটি সংস্কারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। একটি কমিটি করে তাদের মাধ্যমে কাজ আগাচ্ছে। এখন আরো একটি কমিটি করে তাদের মাধ্যমে দ্রুত ও ফলপ্রসূ কার্যক্রম বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। সূত্রমতে, এনেক্স ভবনটির তিন তলায় ছিলো সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অফিস কক্ষ। দ্বিতীয় তলায় ছিলো বিসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ ও হিসাব বিভাগের কার্যালয়। নিচতলায় ছিল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়। তাছাড়া নিচতলায় বিদ্যুৎ অফিস ও একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ জনতা ভবনটিতে আগুন দেয়ার পরে ভবনটি পুড়ে যায়। এরপর নিচতলায় পাঞ্জেগানা মসজিদ ব্যতিত ভবনটি পুরো অংশ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরে। বর্তমানে শুধুমাত্র নিচতলায় নামাজেরস্থানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন আগত মুসল্লিরা। অন্যান্য সকল ফ্লাট ও কক্ষ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার বলেন, এনেক্স ভবনটি পূণঃব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ডিজাইন ভেল্যু আর্কিটেক্ট এন্ড ইঞ্জিনিয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা দশটি পরীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট প্রদান করেন। রিট্রোফাইটিং করে ভবনটি পূণঃব্যবহার করা যাবে বলে সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে ব্যয় হবে অন্তত সাড়ে ছয় কোটি টাকা। স্বপন কুমার আরও বলেন, যেহেতু ইতিপূর্বে ভবনটি কোন অনুমোদিত ডিজাইন পাওয়া যায়নি। তাই এতো টাকা সংস্কারে ব্যয় করলে তা কতোটা স্থায়ী হবে অথবা যৌক্তিক হবে সেই বিষয়ে যাচাই করতে অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের সমন্বয়ে আরেকটি কমিটি করা হয়েছে। তাদের রিপোর্টের পর হয়তো কর্তৃপক্ষ চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এটি সরকারের সম্পত্তি। এভাবে বছরের পর বছর ফেলে রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই। বিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকদের উদাসীনতার কারনে এটি এভাবে নষ্ট হচ্ছে। তাই অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা দাবি জানিয়েছেন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, বুয়েটের মাধ্যমে সংস্কারের ব্যাপরে যে রিপোর্ট করিয়েছিলাম তাতে সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয় করলে সংস্কার করা যায়। যেহেতু ভবনটি ডিজাইন বিহীন করা হয়েছে। তাই আমরা আরেকটি কমিটি করেছি। তিনি আরো বলেন, ডিজাইনবিহীন ভবনে এতো টাকা ব্যয় করে সংস্কার না করাই ভালো। রিপোর্ট পেলে হয়তো এটি ভেঙ্গে পূণঃনির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে