এশার নামাজের আগে খাটে ঘুমিয়ে থাকা যুবককে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য ডাকতে যায় প্রতিবেশী স্কুল ছাত্র শিশু আরিফ (১২)। এসময় ওই যুবক নামাজ পড়তে যেতে না চাইলে তাকে একটি চড় দেয় শিশু আরিফ। এতে যুবক মোশারফ রেগে আরিফের বুকের ওপর একটি লাথি মারে। এতে ঘটনাস্থলে শিশু আরিফের মৃত্যু হয়। পরে যুবক মোশারফ মৃত্যু শিশুর লাশ বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের হিজলা উপজেলার চরবিশোর গ্রামে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা যুবক মোশারফকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে। নিহত ১২ বছর বয়সের স্কুল ছাত্র আরিফ রাঢ়ী উপজেলার হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নের চরবিশোর গ্রামের বাসিন্দা আনিস রাঢ়ীর ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত মোশারফ বয়াতী (২৬) একই এলাকার শাহজালাল বয়াতীর ছেলে। শুক্রবার দিবাগত রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গ্রেপ্তারকৃত মোশারফের বরাত দিয়ে বরিশালের সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আমান বান্না বলেন, ১৯ ফেব্রুয়ারি এশার নামাজের আগে মোশারফের ঘরে যায় প্রতিবেশী আরিফ। তখন মোশারেফকে খাটে শোয়া দেখে আরিফ তাকে নামাজ পড়তে যাওয়ার জন্য উঠতে বলে। কিন্তু মোশারফ উঠতে না চাইলে আরিফ তাকে একটি চড় দেয়। এ সময় মোশারফ রেগে আরিফের বুকের ওপর লাথি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে আরিফের মৃত্যু হয়। পরে মোশারফ মৃত শিশুর লাশ বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেয়। সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আমান বান্না আরও বলেন, রাতভর শিশুর খোঁজাখুজি করেও তার পরিবারের সদস্যরা কোন সন্ধান পায়নি। পরে শুক্রবার সকালে আরিফের লাশ খালের পারে পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। তারা আরিফকে হত্যার ঘটনায় মোশারফকে জড়িত সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন মোশারফ শিশু আরিফকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে এলাকাবাসী মোশারফকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছেন। পুলিশ নিহত আরিফের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত মোশারফকে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আদালতে সোর্পদ করা হবে।