পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় উপজেলার সুবিদখালী বাজারের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে আহত করার অভিযোগে বিচারের দাবীতে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সুজন সিকদার ও তার সহোযোগীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নির্মল দাস। গতকাল সোমবার বেলা ১২ টায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযুক্ত সুজন সিকদার উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের মৃত শাহজাহান সিকদারের পূত্র। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নির্মল দাস ঐদিন রাতেই মির্জাগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ভুক্তভোগী নির্মল দাস বলেন - আমি সুবিদখালী বাজারে দীর্ঘদিন সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছি। মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সুজন সিকদার দীর্ঘদিন যাবত আমার নিকট ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমি পশ্চিম সুবিদখালীস্থ বাসা থেকে সুবিদখালী বন্দরের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় সুজন সিকদার আমাকে দেখে পুনরায় চাঁদা দাবী করেন, এসময় আমি চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে সুজন সিকদার এবং তার সাথে থাকা আব্বাস সিকদার ও ইব্রাহীমসহ ৭-৮ জন লোক আমাকে মারধর করে আহত করে এবং এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে সুজন সিকদার ও তার সহোযোগীরা আমাকে প্রাননাশের ভয়ভীতি দেখায়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন - আমি আমার পরিবার নিয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আপনাদের সাংবাদিকদের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। এদিকে রবিবার(২২ ফেব্রুয়ারী) রাত ১১ টার দিকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নির্মল দাস সুজন সিকদারকে প্রধান আসামী করে তিন জনের নামোল্লেখসহ ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে সুজন সিকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চাঁদা চাওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নির্মল দাসের ছেলে ঋত্বিক দাস মাদক সেবনসহ মাদকসেবীদের সাথে চলাফেরা করে, তার ছেলেকে মাদক সেবীদের সঙ্গ ত্যাগ করতে বলায় তিনি ছেলেকে নিরাপদে রাখতে আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবীর মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তাকে কোনো মারধর করা হয়নি, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নান্নুর বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যায়কারী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সহোযোগিতার কোনো সুযোগ নাই। ওসি সাহেবকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছি। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুস ছালাম জানান, ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে নির্মল দাস নামে এক ব্যক্তি থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।