খুলনায় বদলীকৃত ওসি'র বিরুদ্ধে আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ

এফএনএস খুলনা: | প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
খুলনায় বদলীকৃত ওসি'র বিরুদ্ধে আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ

খুলনার রূপসা থানায় সদ্য বদলী হওয়া ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তার ব্যক্তিগত খোব মিটাতে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করার অভিযোগও রয়েছে ওসি'র বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা হেলাল নামের এক জামায়াতে ইসলামীর নেতা (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহা পুলিশ পরিদর্শক আইজিপি'স কমপ্লেইন মনিটরিং সেল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর এলাকার কর্ণপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মোহাম্মদ আলী নামে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেফতার করে খুলনা কোট পর্যন্ত নিয়ে ছেড়ে দেয়। একপর্যায়ে রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নের রামনগর এলাকার হাফেজ ফজলুল করিমের ছেলে অসুস্থ ও বৃদ্ধ ভুক্তভোগী আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা হেলাল তার প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করে বলে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের ছত্র ছায়ায় রূপসা থানায় মাদক বিক্রি হচ্ছে। এই সত্য কথাটা বলার কারনেই পুলিশের সাথে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ মিথ্যা নাটক সাজিয়ে হেলালের নামে মিথ্যা মামলা করে। যার মামলা নং, ৯১/২৫। ধারা-১৪৩/১৩২/১৩৩/১৫৩/১২৪/১২৫/৩৪ দঃ বিঃ। উক্ত মামলায় তিনি আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন মঞ্জুর করে। রি-কল নিয়ে আদালত থেকে বাহির হয়ে ভুক্তভোগী হেলালকে আদালত চত্ত্বর থেকে বিনা ওয়ারেন্টে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করে। এমনকি পুলিশকে রি-কল দেখানো সত্ত্বেও তাকে হাতকড়া পরিয়ে মটর সাইকেলে করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু হেলালের নামে চেক ডিজ অনার ২টি মামলা থাকলেও উক্ত মামলায় জামিনে মুক্তি রয়েছে। মটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর সময় তার বাম পায়ের হাটুর জয়েন্ট খুলে যায়। পরে থানায় নিয়ে চরমভাবে নির্যাতন করা হয়। যা শীর্ষ সন্ত্রাসীদেরকেও করা হয় না। ওসির ব্যক্তিগত খোভ মিটানোর জন্য সারারাত হেলালকে নির্যাতন করে বাম হাতের কব্জি ও বাম পায়ের হাটু ভেঙ্গে দেওয়া হলেও তাকে কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। হয়নি খাবার দেওয়াও। এমনকি বাসা থেকে খাবার পাঠালে তাও খেতে দেওয়া হয়নি। মান সম্মান ক্ষুন্ন করতে দড়ি দিয়ে বেঁধে গ্রামের মধ্যে ও তাকে হাঁটিয়ে এবং কোর্টে চালান দেওয়ার পথে গাড়ী থেকে নামিয়ে বাজারের মধ্যদিয়া দড়ি বেঁধে ঘুরানো হয়। এমনকি শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে ছবি তুলে ফেস বুক এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার করানো হয়।  ১৩৮ ধারার দুইটি মামলার জামিনের রি-কল জমা দেওয়া সত্ত্বেও সেই মামলা এবং হেলালের ভাইয়ের মামলাসহ ৩টি মামলায় তাকে চালান দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী হেলাল ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার থাকাকালীন ১৬টি বছর নির্যাতিত হয়েছে। কিন্তু ৫ই আগস্টের পরেও বিনা দোষে এই অমানবিক নির্যাতনের শিকার হওয়াটা ছিল তার জীবনের সব চেয়ে বড় বেদনা দায়ক। এদিকে, ওসি মাহফুজ রূপসা থানায় আসার পরে সংঘটিত উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি ঘটনা যেমন, এলাকায় চুরি-ডাকাতি মাদক ব্যবসা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। কোন আওয়ামীলীগের নেতা বা দোসরদের গ্রেফতার না করে তাদের পৃষ্টপোষকতা করেছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মীদের উপর গ্রেফতার, অত্যাচার নিপীড়ন করেছে বেশী, সরকার ঘোষিত মাদক নিমূল অভিযানে কোন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেনি। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, ওসি রূপসা খানায় আসার পর ২২টি হত্যা কান্ড সংঘটিত হয়। সব কয়টি হত্যাকান্ড মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত। সর্বশেষ গত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি খুলনা আদালতের সম্মুখে  জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। তাদের বাড়িও রূপসা থানায় এবং খুনের নেপথ্যে ছিল মাদক ব্যবসা। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মানিক হত্যার মুল আসামীদেরকে গ্রেফতার না করে রূপসা থানা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি নির্দোষ মাসুম বিল্লাহকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। হেলালের ভাই বিএনপি নেতা নুরুল্লাহকে বিদ্যুৎ এর মিমাংসীত মামলায় গত বছরের ১৬ জুন গ্রেফতার করে জেলে পাঠায় পুলিশ। খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হলে পুলিশের চিরুনী অভিযানের ফলে নদী পার হয়ে সন্ত্রাসীরা রূপসা থানায় আশ্রয় নেই এবং এই ওসি মাহফুজের ছত্র-ছায়ায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যায়। ওসি মাহফুজ নারায়নগঞ্জ থাকাকালীন তার অতিত কার্যকলাপের ইতিহাস লোমহর্ষক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নারায়নগঞ্জের মাফিয়া ডন শামিম ওসমানের একজন ঘনিষ্ট সহযোগী। বহু নিরীহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের দমন ও নিপীড়ন করেছেন। জুলাই বিপ্লব দমনে তার সক্রিয় হিংসাক্তক ভূমিকা ছিল। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এই দুর্নীতিবাজ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী ওসি কর্তৃক নেককার জনক ঘটনা তদন্ত পূর্বক জাতির কল্যাণে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বরাষ্ট সচিব সহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি জানতে ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে