সাতক্ষীরায় দুই সাংবাদিককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
সাতক্ষীরায় দুই সাংবাদিককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে মারধর ও পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পাটকেলঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মল্লিক মনিরুজ্জামান এই আবেদন করেন। নির্যাতনের শিকার দুই সাংবাদিক হলেন শেখ মাসুদ হাসান মনি ও মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের জেরে পুরনো শত্রুতা থেকে জনৈক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে এই ‘মব সন্ত্রাস’ চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে পাটকেলঘাটা টাওয়ার রোড এলাকায় ‘ক’ তফসিলভুক্ত সরকারি জমিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের খবর পেয়ে তথ্য সংগ্রহে যান ওই দুই সাংবাদিক। অভিযুক্ত ভবন নির্মাতা নিরঞ্জন দাস কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে তাদের নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘রাখি বস্ত্রালয়’-এ ডেকে নেন। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিলেন স্থানীয় সার ও বীজ ব্যবসায়ী জামালউদ্দীন। মাসখানেক আগে জামালউদ্দীনের সার পাচারের একটি সংবাদ সংগ্রহ করেছিলেন সাংবাদিক মাসুদ হাসান মনি। সেই ক্ষোভ থেকে ১০-১২ জনকে জড়ো করে দুই সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার বদলে তড়িঘড়ি করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। এমনকি ঘটনার পর ভবন মালিক নিরঞ্জন দাস মামলা করতে অনাগ্রহ দেখালেও পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুল কবিরের চাপে তিনি মামলা করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার পুলিশ ওই মামলায় সাংবাদিকদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জানতে চাইলে পাটকেলঘাটা থানার ওসি লুৎফুল কবির বলেন, “মামলা করতে কাউকে চাপ দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। আর রিমান্ড চাওয়া একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া।” তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জামালউদ্দীন হামলার দায় অস্বীকার করে দাবি করেন, তাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং সার পাচারের বিষয়টি সঠিক নয়। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বর্তমান সরকার মব সন্ত্রাস বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। অথচ সাংবাদিকদের এভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে উল্টো রিমান্ড চাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে