বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে এক কিশোরী গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আপন মা ও স্বামীর বিরুদ্ধে। কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর সঙ্গে দেওয়া বিয়ে মেনে না নেওয়ায় ওই গৃহবধুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। সোমবার রাতে উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এঘটনায় নির্যাতিত গৃহবধু আকলিমা বেগম (১৭) বাদী হয়ে মঙ্গলবার মেহেন্দীগঞ্জের কাজিরহাট থানায় অভিযোগ করেছেন।
আকলিমা বেগম আন্ধারমানিক গ্রামের নূরুজ্জামানের মেয়ে। প্রায় ২ মাস আগে তার মা হাসিনা বেগম জোড়পূর্বক একই গ্রামের প্রবাসী তসলিম উদ্দিন (৪৫) এর সঙ্গে বিয়ে দেন। স্বামী ও মায়ের নির্যাতনের শিকার আকলিমা বর্তমানে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
আকলিমা বেগম অভিযোগে জানান, তার মা হাসিনা বেগম লোভের বশবর্তী হয়ে একই গ্রামের প্রবাসী ৪৫ বছর বয়সী তসলিম উদ্দীনের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের দুই মাস অতিবাহিত হলেও স্বামীকে মেনে নেননি আকলিমা। এতে তার মা হাসিনা বেগম ও স্বামী তসলিম উদ্দীন ক্ষিপ্ত হয় এবং গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তারা কৌশলে আকলিমাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। পরে রাতে স্বামীর পাশাবিক নির্যাতনে সে অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসা নিতে দেওয়া হয়নি। সোমবার রাতে এবিষয় নিয়ে কথার কাটাকাটি হলে তসলিম উদ্দীন ও হাসিনা বেগম মিলে আকলিমাকে নির্যাতনে করেন। আকলিমার ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাতেই হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে আকলিমার মা হাসিনা বেগম মেয়েকে নির্যাতনের কথা অস্বীকার বলেন, মেয়ের বয়স কম তাই অনেক কিছু বুঝে না। তাকে স্বামীকে মেনে নিয়ে সংসার করতে বলা হয়েছে। ওই সময় সে তার স্বামীর সঙ্গে হাতাহাতিতে একটু আহত হয়েছে।
এব্যাপারে কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হাসান বলেন, গৃহবধূ তার মা ও স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তিনি হাসপাতলে ভর্তি রয়েছেন। এঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।