আশাশুনিতে আদালত অমান্য করে ঘেরের মাছ লুটপাট ও বাঁধ কেটে একাকার

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
আশাশুনিতে আদালত অমান্য করে ঘেরের মাছ লুটপাট ও বাঁধ কেটে একাকার

আশাশুনিতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ডিড নেয়া ৩৪ বছরের ভোগদখলীয় মৎস্য ঘেরের বাঁধ কেটে খালে ছুটিয়ে দেয়া, নতুন বাঁধ ও মাছ লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থানে পৌছে কাজ বন্দ ও থানায় হাজির হতে বলেছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে উপজেলার শ্রীধরপুর বিলে এ ঘটনা ঘটে। 

ডিড মালিক তরিকুল ইসলাম শামীম জানান, তিনি গাজী মৎস্য চাষ প্রকল্পের আওতায় শ্রীধরপুর মৌজায় ৪টি খন্ডে ৩৪.০০ একর জমি ১৯৯৪ সাল থেকে ডিড নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে মৎস্য চাষ করে আসছি। উপজেলা চিংড়ী সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ২০২৬ সালের লাইসেন্স দিয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানের ট্রেড লাইসেন্স ও ২০২৮ সাল পর্যন্ত ডিড আছে। অধিকাংশ জমির হারি ২৬ সাল পর্যন্ত পরিশোধ। হারির টাকা পিয়ন বুকে ও রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর নিয়ে দেয়া হয়। ২২ সাল পর্যন্ত নারান ঘোষ ও সাধন ঘোষ ৪ পরিবারের পক্ষে হারি নিতেন। ২৩ সাল থেকে ভাইয়েরা পৃথক পৃথক হারি নিয়ে আসছে। ২৬ সালে আমাদের জমি দেবেনা এমন কোন নোটিশ বা কথা আমাদেরকে বলা হয়নি। ঘেরের পাশে ধাপুয়ার খালের জমিতে জানুয়ারী মাসে ওবায়দুল্লাহ টিনের ঘর নির্মান শুরু করলে জানতে চাইলে বলে খালের পাহারার ঘর। কিন্তু তাদের চালচলনে সন্দেহ হলে আমরা আদালতে ১৪৫ ধারা পি-১৬২/২৬) মামলা করি। বিজ্ঞ আদালত পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত (৫/৫/২৬) উভয় পক্ষকে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে ওসি ও এসি (ল্যান্ড) আশাশুনিকে শান্তিশৃংখলা ও তদন্তের আদেশ করেন। উভয় পক্ষকে তদন্তের জন্য নোটিশ করা হয়েছে। খবর পেয়ে মোঃ ওবায়দুল্লাহ ১৪৫ ধারা মামলা করলে দখলের ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন ও শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার আদেশ হয়। আদালতের আদেশ অবমাননা করে ওবায়দুল্লাহ দিং গত ২৫ ফেব্রুয়ারী সকালে মৎস্য ঘেরে অনাধিকার প্রবেশ করে ঘেরের বাঁধ কেটে ছুটিয়ে দিয়ে মাছ ও পানি খালের সাথে একাকার করে দেয় এবং একপাশে কিছু জমি বাদ রেখে মাটির বাঁধ দেয়া হয়। মাছ লুটপাট করা হয়। জানতে পেরে ৯৯৯ নম্বরে রিং করলে থানা থেকে এসআই দীপ্তি ঘটনাস্থলে পৌছে তাদেরকে নিবৃত ও আদালতের আদেশ মানতে আদেশ করেন এবং বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষকে থানায় হাজির হতে বলেন। তরিকুল ইসলাম শামীম আরও বলেন, জমির মালিকরা ঘের করতে চাইলে দেব কিন্তু ৩৪ বছর ঘের করা কালীন বাইরের লোককে হঠাৎ করে ডিড দিয়ে আমাদের সাথে সংঘাত সৃষ্টি, লুটপাট অপরাধ জনক। আমরা এর প্রতিকার ও আইনগত ব্যবস্থা দাবী করছি। 

থানার এসআই দীপ্ত বলেন, ৯৯৯ খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে আদালতের আদেশ মেনে চলতে এবং বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় থানায় হাজির হতে বলে এসেছি।  

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে