আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুরে জমির মালিকরা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির মৎস্য ঘের শান্তিপূর্ণ ভাবে ফেরৎ পেতে মানববন্ধন করোছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) তারা জমির পাশে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, জমির মালিক পাইকগাছা উপজেলার বাঁকা গ্রামের সাধন ঘোষ, নারান ঘোষ, মহাদেব ঘোষ তারক ঘোষ। বক্তব্যে মালিকরা জানান, তারা তাদের ১৪টি পরিবার শ্রীধরপুর মৌজায় ৯.৫১ একর জমির মধ্যে ৪.৯৬ একর জমি পৈত্রিক সুত্রে মালিক। ১৯৯৪ সাল থেকে শ্রীধরপুর গ্রামের মাজেদ গাজী জমিতে ঘের করতেন। তিনি নিয়মিত হারির টাকা দিতেন। ২০১৪ সালে তার পুত্র তরিকুল ইসলাম শামীম ঘের পরিচালনা করেন। তার ব্যবহার ভাল না এবং ঠিকভাবে হারির টাকা দেয়না। ২০২১ সালে আমরা জমির মালিকরা মাজেদ গাজীর বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ করি। ঘর থেকে শামীম অশ্লীল ভাষায় কথা বলে। তখন তার পিতা ছেলে হারির টাকা না দিলে আমাদেরকে অন্য কোথাও ডিড দিতে পরামর্শ দেন। তারপরও গত ৩ বছর শামীম হারির টাকা ১০/১১ হাজার টাকায় নামিয়ে আনে এবং ঠিক ভাবে টাকা না দেওয়ায় আমরা শ্রীধরপুরের ওবায়দুর রহমানের কাছে জমি ২০২৮ সাল পর্যন্ত ডিড দেই। ডিডের কথা জানতে পেরে শামীম ও তার পিতা আমাদের কাছে এসে ভুলের জন্য মাফ চেয়ে তাদেরকে ডিড দিতে অনুরোধ করে। তা সম্ভব নয় জানিয়ে দ্রুত মাছ ধরে নিয়ে ঘের ছেড়ে দিতে বলি। শামীমের ডিডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১৫ জানুয়ারী ওবায়দুর রহমান ঘেরের বাসা তৈরি ও ঘেরের বাঁধের কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষ পুলিশ আনলে পুলিশ দু'পক্ষকে নিয়ে থানায় বসার সময় জানিয়ে দেন। কিন্তু পরপর চারবার আমরা হাজির হলেও প্রতিপক্ষ হাজার না হওয়া পুলিশ তারা বসবেনা জানিয়ে দেয়। এছাড়া তারা ভূয়া ডিড তৈরি, অগ্রিম টাকা নেয়াসহ মিথ্যা অভিযোগে কোর্টে মামলা করেছে। পুলিশ উভয় পক্ষকে আদালতের আদেশ মেনে শান্তি বজায় রাখতে বলে এবং এসি ল্যান্ডের পক্ষে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। জমির মালিকদের পক্ষে নারান ঘোষ বাদী হয়ে ডিড জালিয়াতির অভিযোগে বিজ্ঞ আমলী আদালত, ০৮ আদালতে সিআর ৪৩/২৬ মামলা করেছেন। সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বক্তাগণ বলেন, আমরা আজ ৪.৯৬ একরের মধ্যে ৮৬ শতক বাদ রেখে বাকী জমির সীমানায় বাঁধেরর কাজ করছি। আমরা আমাদের পৈত্রিক সস্পত্তিতে শান্তিপূর্ণ ভোগদখল করতে পারি সেজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিজ্ঞ আদালতের সহযোগিতা কামনা করছি।