নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ। হামলার প্রতিবাদে তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়কে অবস্থান নেন। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পুলিশি পাহারায় সেখান থেকে সরে যান।
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টার দিকে হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নিতে ভূমিহীন বাজার হয়ে প্রকল্প বাজার এলাকায় যান এমপি হান্নান মাসউদ। এ সময় তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থকরা জড়ো হন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
হান্নান মাসউদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি প্রকল্প বাজারে পরিদর্শনে এলে সন্ত্রাসী বেলাল মাঝির নেতৃত্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এই বেলাল মাঝি অতীতে বহু অঘটন ঘটিয়েছেন।” তিনি হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্য এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিএনপির লোকজন ডাকাতদের এনে হাতিয়ায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমাকে এলাকায় ঢুকতে দেবে না।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। চানন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুব বলেন, হান্নান মাসউদের নেতৃত্বেই প্রথমে ককটেল ফাটিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। পরে তাদের কার্যালয় ও বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। তার দাবি, “স্থানীয়রা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আমাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।”
অভিযুক্ত বেলাল মাঝির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম বলেন, “পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।” তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
দেড় ঘণ্টার অবস্থানের পর পুলিশি নিরাপত্তায় এলাকা ত্যাগ করেন এমপি হান্নান মাসউদ। তার চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।