ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সময় শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরান ভূখণ্ডে হামলা শুরুর দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, এটি ছিল ইরানের বিরুদ্ধে ‘আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা’। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল ও জেরুজালেম পোস্ট জানায়, শনিবার সকালে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিয়েছে। ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষিত স্থানের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে সতর্কতা বার্তা পাঠিয়েছে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী।
ইরানি গণমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরানের রিপাবলিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরা তাদের লাইভ প্রতিবেদনে তেহরানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সকালে দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালানো হয়েছে, যাতে আমাদের রাষ্ট্রের ওপর ঝুঁকি দূর করা যায়।” তিনি দেশজুড়ে “বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা” ঘোষণা করেন। আইডিএফ এক সতর্ক বার্তায় জানায়, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য এটি একটি সক্রিয় সতর্কতা।”
এর আগে শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জেনেভায় তৃতীয় দফা আলোচনার পরও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে রাজি হয়নি। “আমরা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তারা যেভাবে আলোচনা করছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই,” বলেন তিনি। একই সঙ্গে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৩ জুন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছিল ইসরায়েল। ২২ জুন ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালায়।
সর্বশেষ হামলার পর ইরান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া এখনো জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ ঘটনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল।