পটুয়াখালীতে ঋণ পেতে হিন্দু নারী সদস্যকে কুপ্রস্তাব কর্মকর্তার

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
পটুয়াখালীতে ঋণ পেতে হিন্দু নারী সদস্যকে কুপ্রস্তাব কর্মকর্তার

পটুয়াখালীর দুমকিতে ক্ষুদ্র ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে এক হিন্দু নারী সদস্যকে আবাসিক হোটেলে যাওয়ার প্রস্তাব ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন-এর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মামুন অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। অভিযোগকারী ওই নারী উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি স্বামীহারা এবং একটি ছোট ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে জানান। ভুক্তভোগী নারী বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তিনি প্রথমে ফাউন্ডেশন থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন এবং তা নিয়মিত কিস্তিতে পরিশোধ করেন। পরে পুনরায় এক লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং তারও বেশকিছু কিস্তি পরিশোধ করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি তার মেয়ের বিয়ের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ সময় তিনি তিন লাখ টাকা ঋণের জন্য উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা ঋণ অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে বিনিময়ে তাকে একটি বোর্ডিং বা আবাসিক হোটেলে যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং ঋণ পেতে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা কিস্তি আদায়ের অজুহাতে প্রায়ই তার বাসায় প্রবেশ করতেন। তিনি ও তার মেয়ে ছাড়া বাসায় অন্য কেউ না থাকায় বিষয়টি জানার সুযোগ নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ঘরে ঢ়ুকতেন বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া হনুফা নামে আরেক সদস্যর সাথে এরকম কুপ্রভাব দেন ও তাকে দেড় লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা এলাকার লোকজনের কাছে শোনা যাচ্ছে। তবে ঋন গ্রহণের পর থেকেই পালিয়ে যান অনুপ ও তার পরিবার। এছাড়াও ঐ কর্মকর্তা মামুনের বিরুদ্ধে স্বাবলম্বী মানুষদের ঋণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর এই ঋণ দেওয়ার নামে ঘুষ নিচ্ছেন কর্মকর্তা মামুন। এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ ফরিদা আক্তারকে তার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেনি। পরে তার মুঠোফোনে মেসেজ দিলে তিনি তার রিপ্লাই দেননি। পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার দায়িত্বে থাকা ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, এরকম কোন অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তাছাড়া পুরো বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মামুন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো অনৈতিক প্রস্তাব বা ঘুষ দাবি করিনি। গৌরী রানীর যাতে কিস্তি দেওয়া না লাগে সেজন্যই তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে। এছাড়াও থানায় যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তা প্রত্যাহার করেন গৌরী রানী শীল বলেন তিনি। তবে অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়ে গৌরী রানী শীল জানান, আমি কেন অভিযোগ প্রত্যাহার করব। মামুন তো আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলো। আর আমার থেকে পাঁচ হাজার টাকাও নেয় এক লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে