রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) তেলের সংকটের কারণে দুইদিন ধরে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। গত দুই দিন ধরে রাসিকের কোনো ময়লা তাদের নির্ধারিত সেকেন্ডারি পয়েন্ট থেকে ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে না। ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই তারা এই সমস্যার সমাধান করে ময়লা অপসরণ শুরু করবে।
রোববার ( ১৫ মার্চ) রাজশাহী সিটি কপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাসিকের বর্জ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত গাড়িগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় নিয়মিতভাবে ময়লা অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও ডাস্টবিনে বর্জ্য জমে থাকছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার সেকেন্ডারি পয়েন্ট থেকে প্রধান সড়কেও ছড়িয়ে পড়েছে ময়লা।
রাজশাহী নগরীর সিটি বাইপাস এলাকার ঘোড়া চত্তরের সেকেন্ডারি পয়েন্ট সামনে ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ময়লার বুথ পুরোটাই ভর্তি। এমনকি প্রধান সড়কের এক পাশের অনেকটা পথই ময়লায় ছড়িয়ে আছে। একই অবস্থা রাজশাহী সব সেকেন্ডারি পয়েন্টের। এছাড়াও ময়লা অপসহন না হওয়ায় বাড়ি বাড়ি থেকেও সংগ্রহ করা হচ্ছে না ময়লা।
এদিকে নগরবাসী দ্রুত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ময়লা পড়ে থাকলে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
নগরীর বিলসিমলা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, দুই-তিন দিন ধরে এলাকার ডাস্টবিনের ময়লা অপসারণ করা হয়নি। এতে করে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ও চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে।
নগরীর ঘোড়া চত্তরের এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, এই এলাকাটি মেডিক্যাল এলালা। ফলে এখানে প্রতিদিন প্রচুর বর্জ্য তৈরি হয়। নিয়মিত অপসারণ না হলে পরিবেশ দূষণ বাড়ে এবং স্থানীয়দের সমস্যা বাড়ে। তারা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দ্রুত এসব ময়লা অপসারণ করা দরকার।
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় গত শুক্রবার থেকে আমাদের নির্ধারিত সেকেন্ডারি পয়েন্ট থেকে ভাগাড়ে ময়লা অপসরণ বন্ধ ছিলো। তবে আমার দ্রুত সময়ের মধ্যেই তেল ব্যবস্থা করে ফেলেছি। আমার আমা করছি শনিবার রাত থেকেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে পারবো।