কিশোরগঞ্জে প্রশাসকের দায়িত্ব নিলেন ভিপি সোহেল

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
কিশোরগঞ্জে প্রশাসকের দায়িত্ব নিলেন ভিপি সোহেল

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে চমকপ্রদ উপহার পাওয়া এই প্রশাসক সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও মোনাজাতের পর তিনি জেলা পরিষদ কার্যালয়ে পৌঁছে এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পাওয়ায় জেলার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের আগে  ভিপি সোহেল তাঁর পৈতৃক নিবাসে যান এবং সেখানে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। তিনি মরহুম পিতা-মাতার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর তিনি সরাসরি কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। দায়িত্বভার গ্রহণের পর তিনি জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এবং পরিষদের স্থবির হয়ে পড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো পুনরায় সচল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল হক সাদী বলেন,দীর্ঘ বছর পর একজন সুযোগ্য জনবান্ধব প্রশাসক পেয়েছে জেলা পরিষদ। রাজনীতির মাঠে পরীক্ষিত ও ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পাওয়ায় জেলার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আশা করি বেকার যুব সম্প্রদায়ের জন্য ও সাংবাদিক এবং সকল শ্রেণির মানুষের কল্যানেই তিনি কাজ করবেন। গতকাল রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমল থেকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্যাতন সহ্য করা এবং গত জাতীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রদর্শনের পুরস্কার হিসেবে এই পদটি তাঁর জন্য একটি বিশেষ উপহার বলে মনে করছেন নেতা-কর্মীরা। দায়িত্ব গ্রহণ শেষে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, ‘আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া এবং বাবা-মায়ের দোয়া নিয়ে আমি জেলাবাসীর সেবা শুরু করলাম। কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদকে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য। উল্লেখ্য, পতিত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে দীর্ঘদিন নিপীড়ন-নির্যাতন এবং কারাভোগ করেছেন খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল। বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ছিলেন অন্যতম প্রার্থী। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম।  এমন পরিস্থিতিতে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ ছয় মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী একজোট হয়ে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। কিন্তু দল মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনে কোনো সাড়া দেয়নি। ফলে অন্য বিদ্রোহী প্রার্থীরা সরব কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে দল মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বিজয়ীও হন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে