এক-এগারোর আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি, একই সঙ্গে ওই মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মাসুদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিবি জানায়, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ছয়টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফেনীর তিনটি মামলা বিচারাধীন, যেখানে তিনি পলাতক থাকায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। বাকি তিনটি মামলা ফেনীতে এবং ঢাকার পাঁচটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও সিআইডিতে একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে।
ডিবি প্রধান জানান, রাজধানীর পল্টন থানার মানবপাচার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় তিনি তিন নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি এবং এতে মোট ১০১ জন আসামি রয়েছে। মামলাটিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মাসুদের বিরুদ্ধে বনানী, পল্টন, কোতোয়ালী, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানবপাচার প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগে মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে।
ডিবি প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদ বিদেশে পালিয়ে যাননি, বরং দেশেই পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন নজরদারির পর তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক-এগারোর সময় আলোচিত এই সেনা কর্মকর্তা ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সে সময় গঠিত গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অবসরের পর তিনি ব্যবসায় যুক্ত হন এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ডিবি জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।