সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক মাসে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং সেসব বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা সরকারে আসার পর এক মাস হয়েছে। এই সময়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে, ওই মিটিংয়ে বিষয়টি বলা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে এবং যেসব মামলার সাজা হয়েছে, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা তো কথাই বলছি। এটা তো অলরেডি চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।” উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে ফেরত পাঠাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২৩ ডিসেম্বর ভারতের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
একই ব্রিফিংয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে অগ্রগতির কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা যতটুকু জানি, ভারত থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিস্তারিত বলতে পারবে।”
এদিকে, শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখনো ভারতের কাছ থেকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস পায়নি বাংলাদেশ। তবে দ্রুতই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা সরকারের অগ্রাধিকার।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে। ইরানে থাকা দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি বর্তমানে নিরাপদ আছেন। তারা দেশে ফিরতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।