চাঁদপুরে লঞ্চে সন্তান প্রসব, আনন্দে যে ঘোষণা লঞ্চ কোম্পানির

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
চাঁদপুরে লঞ্চে সন্তান প্রসব, আনন্দে যে ঘোষণা লঞ্চ কোম্পানির

না'গঞ্জ- মোহনপুর  থেকে চাঁদপুরগামী এমভি হাশিমপুর  লঞ্চে নবজাতকের জন্ম দেওয়ায় মা ফাতেমা আক্তারকে(৩২) লঞ্চ কোম্পানির মালিক আবুল ও মাহবুব  ৫০০০ টাকা উপহার দিয়েছেন এবং ওই শিশুটির জন্য আজীবন লঞ্চে বিনা মূল্যে যাতায়াতের ঘোষণা দিয়েছেন। সএ তথ্য নিশ্চিত করেন লঞ্চের চাঁদপুর ঘাট  সুপারভাইজার মো. রুহুল আমিন। ঘটনাটি মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সকাল দশটার সময় মতলব উত্তর একলাশপুর থেকে চাঁদপুর আসার পথে মেঘনা নদীতে। যেখানে যাত্রীদের সহায়তায় নিরাপদে কন্যা সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হয়।

চাঁদপুর নৌ থানা পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে  এমভি হাশিমপুর লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে এসে মোহনপুরের একলাশপুর ঘাটে ভিড়ে। ওই সময় মতলব উত্তর জহিরাবাদ ইউনিয়নের মেঘনার পশ্চিমপাড় চিরারচর গ্রামের জনৈক আল আমিন প্রধানিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর হাসপাতালে আসার জন্য ওই লঞ্চে ওঠে। সকাল দশটার দিকে লঞ্চটি চাঁদপুরের কাছাকাছি আসতেই ওই লঞ্চের নিচতলার সিটের একটি চেয়ারে বসে থাকা ফাতেমা আক্তারের প্রসব ব্যথা ওঠলে লঞ্চের অন্যান্য মহিলা যাত্রীদের সহায়তা সেখানেই মহিলার কন্যা সন্তান প্রসব করে। পরে লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছলে ঘাট সুপারভাইজার রুহুল আমিন চাঁদপুর নৌ থানা পুলিশের সহযোগিতায় প্রসূতি মা ও তাঁর সন্তানকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গাইনী ওয়ার্ডের ১৭ নম্বর বেড এ ভর্তি করেন। ওই সময় ফাতেমা আক্তারের স্বামীসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন সঙ্গে ছিলেন। 

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুররহমান জানান,চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্তর মাধ্যমে তিনি এই ঘটনাটি জানতে পায়।পরে তাদেরকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেন।বাচ্চাটি সুস্থ রয়েছে। মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার চিকিৎসা চলছে। 

লঞ্চের ঘাট সুপারভাইজার রুহুল আমিন জানান, লঞ্চের ভিতর  একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান  জন্ম দেন। এই খুশিতে ওই লঞ্চ কোম্পানি আনন্দিত হয়ে শিশুটির জন্য আজীবন ওই লঞ্চে যাতায়াত ফ্রি ঘোষণা দেন।তারা এই ঘটনায় লঞ্চে মিলাদের ব্যবস্থা করেছেন। 

ফাতেমা আকতারের সঙ্গে থাকা তার ছোট ভাই জানান, তাদের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্ণীপুর ইউনিয়নে। বোনকে মতলব উত্তর চিরা চরে বিয়ে দেয়া হয়েছে।তার বোনের প্রসব ব্যাথা উঠলে ট্রলারে মেঘনা পাড়ি দিয়ে প্রথমে একলাশপুর আনা হয়। চাঁদপুর হাসপাতালে আনার জন্য সেখান থেকে ওই লঞ্চে উঠেন এবং লঞ্চেই কন্যা সন্তানের ভূমিষ্ঠ হয়। এটি ফাতেমা আক্তারের তৃতীয় সন্তান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে