দেশে হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। রাজধানীর একটি হাসপাতালে আয়োজিত কর্মসূচিতে তিনি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় এখন মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকা শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বজ্রপাতের মতো এসেছে হাম, কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে অল্প সময়ে হাম মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত আমরা।”
প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে দীর্ঘদিন ধরে হামের টিকাদান কর্মসূচি জোরালোভাবে পরিচালিত হয়নি। ২০১৮ সালের পর থেকে এ বিষয়ে বড় কোনো ক্যাম্পেইন না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে টিকা কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং টিকা সংগ্রহের জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার (৩০ এপ্রিল) সচিবালয়ে তিনি বলেন, ঢাকা ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় হামের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রাজশাহী ও মানিকগঞ্জে ভেন্টিলেটর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে দ্রুত এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান মন্ত্রী। টিকা সংগ্রহে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ-এর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একই সঙ্গে সচেতনতা বাড়ানো ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি। এ অবস্থায় সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।