শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগাতে রাজশাহীতে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(২০ আগস্ট) সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে ‘শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও শিশু সুরক্ষা’ বিষয়ক এ কর্মশালার আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। এতে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মুহাম্মদ ইমামুল ইসলাম। তিনি বলেন, শিশুরা আল্লাহর দেওয়া আমানত। তাদের প্রতি কোনো ধরনের নির্যাতন, অবহেলা বা সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবার ও সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় নেতারা মানুষের কাছে সহজে পৌঁছাতে পারেন। তাই মসজিদ, মন্দির ও গির্জার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করে শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তাঁদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদারের সঞ্চালনায় কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম অফিসার ফিলিপ আরিন্দা। তিনি শিশু সুরক্ষায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজ থেকে দারিদ্র্য ও অন্যায্যতা দূর করতেও সংস্থাটি কাজ করছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতারা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ফলে তাঁদের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষা ও সহিংসতা প্রতিরোধের বার্তা সমাজের বিভিন্ন স্তরে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
কর্মশালায় ইসলাম ধর্মের আলোকে শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা ও করণীয় বিষয়ে বক্তব্য দেন মহানগর মডেল মসজিদের খতিব হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহীর ফিল্ড অফিসার জাহাঙ্গীর আলম।
হিন্দু ধর্মের আলোকে বক্তব্য দেন রামকৃষ্ণ আশ্রমের পুরোহিত অরুণ কুমার সত্য এবং পবা উপজেলার নওহাটা শিবকালী মাতা মন্দিরের পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী। খ্রিস্টান ধর্মের আলোকে বক্তব্য দেন উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রালের ভিকার জেনারেল ও পালক পুরোহিত ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডী।
কর্মশালায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, যৌন হয়রানি ও অন্যান্য ঝুঁকি প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ধর্মীয় বক্তব্য, উপদেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; পরিবার ও সমাজের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে কাজে লাগিয়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সচেতনতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহীর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নীলু বেগম, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোসা. শারমিন আক্তার সুরভী ও অর্জুন রায়সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।