যশোরের চৌগাছায় কালো বাজারে পাচারের সময় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে চৌগাছা পৌরসভার চাঁদপুর মোড় এলাকায় স্থানীয় জনগণ সারগুলো আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়।
স্থানীয়রা জানান, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নসিমনে করে সারগুলো ঝিকরগাছার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা নসিমনটি আটক করেন। খবর পেয়ে চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি,এম,এ, মুনিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, চৌগাছা শহরের ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম অবৈধভাবে সারগুলো মজুদ করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সেখান থেকেই সারগুলো অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল। পরে খাইরুল ইসলামের দোকানে অভিযান চালানো হলেও দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন এঘটনায় সাইফুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হবে।
এদিকে, পৌরসভার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল ইসলাম। এর আগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সারের সংকট নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারের অবৈধ মজুদ ও পাচারের বিরুদ্ধে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না, অথচ এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সরকারি সার অন্যত্র পাচার হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, সারের সংকটের মধ্যে সরকারি সার কীভাবে পাচার হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন? স্থানীয়দের দাবি, শুধু পরিবহনকারী বা নসিমন চালককে আটক না করে সরকারি সার অবৈধভাবে মজুদ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্টদেরও তদন্তের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।