সুনামগঞ্জে ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার রায়, দুই আসামির যাবজ্জীবন

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
সুনামগঞ্জে ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার রায়, দুই আসামির যাবজ্জীবন

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় ২০১৪ সালে সংঘটিত ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার প্রায় এক যুগ পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও নয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকার গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া এবং সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া। এ ছাড়া সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন রামিজ আলী, নুরুল মিয়া, খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান। দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর মিয়া ও তাহের মিয়াকে।

রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আগে যে সময় হাজতে ছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই সময় তাদের কারাদণ্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট।

মামলার রায়ের বিবরণে জানা যায়, স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ঘটনার আগের দিন ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই জুয়েল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষী ফয়জুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর পরদিন ২৯ জুলাই ঈদের দিন সকালে ওয়েজখালী পয়েন্টের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওয়ারিশ আলীসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত ওয়ারিশ আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট ওয়ারিশ আলী মারা যান। তার মৃত্যুর পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বুধবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে জাকারিয়া, আব্দুল জহুর, সাজ্জাত আলী, রেনু মিয়া, জুয়েল মিয়া, মো. শফিকুল ইসলাম, খলিল, সুমন, রিপন ও শাহাবুদ্দিনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শাহের আলী ও পারভেজ মিয়া মারা যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা অবসান করে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে