টরকী-বাশাইল খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
টরকী-বাশাইল খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন

দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও গণমাধ্যমে লাগাতার লেখালেখির পর অবশেষে মৃতপ্রায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দর থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ বাশাইল খাল খননের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন। এ খবরে ভুক্তভোগী কৃষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

এর আগে "বরিশালে মৃতপ্রায় খালে বিপন্ন দুই উপজেলার জনপদ" শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে, প্রায় নয়কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায়, অপরিকল্পিত ব্রিজ, বাঁধ, খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ভরাট হয়ে গেছে। টরকী-বাশাইল খালটি আড়িয়াল খাঁ নদীর শাখা পালরদী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে টরকী বন্দর, ধানডোবা, রাজাপুর, সাদ্দাম বাজার, মোক্তার বাজার, চেংগুটিয়া গ্রাম হয়ে বাসাইল বাজার পর্যন্ত গেছে। একসময় এটি ছিল প্রধান নৌ-পথ। বর্তমানে শীত মৌসুমে খালে পানি থাকে না। ফলে এই খালের উপর নির্ভরশীল প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমির বোরো আবাদ হুমকির মুখে। কৃত্রিম সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে নদী থেকে খালে পানি তুলে সেই পানি কয়েক হাত বদল হয়ে কৃষকের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তথ্যমতে, প্রতি ২০ শতাংশ জমি চাষে ৩ শতাংশ ধান সেচ ম্যানেজারকে দিতে হয়। এতে কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে পান চাষ ও ঘেরের দিকে ঝুঁকছে। বর্ষায় আবার সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ফসল। বাড়ছে অনাবাদি জমির পরিমাণ। বদ্ধ পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশা ও পানিবাহিত রোগ। গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই খালটির নাব্যতা ফেরাতে খনন কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা পরিবেশকর্মী সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল বলেন, "এটা আমাদের দীর্ঘ আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। তবে আমরা চাই লোক দেখানো খনন নয়। ঈঝ, ঝঅ, জঝ, ইঝ সকল পর্চা অনুযায়ী খালের সীমানা নির্ধারণ, সীমানার ভেতরের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বিশেষজ্ঞ টিম দিয়ে নাব্যতা সমীক্ষা করে নদীর সাথে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, নৌ যোগাযোগ সচল হলে তৈরি হতে পারে পর্যটন সম্ভাবনা। খালটি পুনরায় সচল হলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে নতুন দুয়ার খুলবে। স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা বলছেন, খালটি বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে খনন ও দখলমুক্ত করা হলে দুই উপজেলার কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ আবার প্রাণ ফিরে পাবে। পরিবেশকর্মীদের দাবি, নামমাত্র খনন কিংবা ঠিকাদারের স্বেচ্ছাচারী খনন নয়, চাই বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই খনন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে