নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে মানবিক, দক্ষ ও ভবিষ্যৎ উপযোগী জনশক্তি গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, ব্যবসা ও শিল্পখাত এবং একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নভো থিয়েটারের অডিটোরিয়াম হলে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই ও গতিশীল করতে বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সংযোগ তৈরি করা গেলে নতুন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ওভারল্যাপিং ও ডুপ্লিকেশন বন্ধ করা জরুরি।
এতে সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় কমানো সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
ব্যবসা ও শিল্পখাত, একাডেমিয়া এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগকে দেশের উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, গবেষণার ফলাফল ও উদ্ভাবন শিল্পের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে এর বাস্তব সুফল আরও বাড়বে।
সরকার উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও সমন্বয় বাড়াতে চায় বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। একই প্ল্যাটফর্ম ও অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে সার্বিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ইনোভেশন ফেয়ার তরুণ উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পখাতের মধ্যে যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিখোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহির চৌধুরী, বিআইআইএনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবির, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, ব্যাংক এশিয়ার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতার উদ্দিন মাহমুদ, ইউনিলিভার বাংলাদেশের পরিচালক দুরদানা চৌধুরী এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিই বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসাইন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা, প্রযুক্তির ব্যবহার, শিল্প ও একাডেমিয়ার সহযোগিতা এবং তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।