নির্বাচনীয় আচরণবিধি লংগনে রাজনৈতিক নেতারা শীতবস্ত্র বিতরণ না করায় চরম ভোগান্তিতে দুস্থ ও অসহায় মানুষ। তীব্রভাবে গত চারদিন ধরে সূর্যের আলো দেখা যাচ্ছে না বিপর্যস্ত পড়ছে নেছারাবাদের জনজীবন। হিমেল হাওয়া আর গনকুয়াশায় কনকনে শীতের তীব্রতায় কর্মসংস্থানে ঘর থেকে বের হতে পারছেনা কর্মজীবী মানুষগুলো। নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, গত চারদিন ধরে শতবর্ষিয়ান, মধ্য বয়সি ও শিশুরা, জ্বর, সর্দি কাশি ও নিমোনিয়া রোগী আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সেবা নিচ্ছেন। ৩০ বেডের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ধাররণ ক্ষমতার অধিক ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়ায় ডাক্তাররাও সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ঠান্ডা জনিত রোগে নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা পড়ছেন চরম বিপাকে। মাহমুদ কাটির শাজাহান বলেন, ঘরে চাল, ডাল, নুন, কিছুই নেই। দুই দিন ধরে গণ কুয়াশা আর শীতে কাজে বের হতে পারছি না। উপজেলার আলকির হাটের সন্ধ্যা নদীর চরে গাছের চেরাই কাজ করি,আজ তিনদিন ধরে কাজে যেতে পারছি না আর আয় রোজগারও নেই, কী দিয়ে চাল, ডাল কিনবো হেয়া মুই জানি না-রে! উপজেলার বিষ্ণুকাঠি গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, একটি কম্বল কেনার পয়সা মোর নাই। কোরাম খাতা কাপড় প্যাঁচিয়ে ঘুমাতে হয়। সরকারি ও বেসরকারি কোনো সংস্থার শীতবস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসেনি এখনো। শীতের তীব্রতায় উপজেলায় পুরাতন নতুন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় করেছে সাধারণ ক্রেতারা। নেছারাবাদে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ কম মূল্যে শীতবস্ত্র কেনার জন্য ভিড় করছে ফুটপাতের দোকানগুলোতে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুরাতন গরম কাপড়ের ব্যাবসা বেশ জমজমাট হয়ে উঠছে। উপজেলার পুরাতন কাপড় বিক্রির বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে দৃশ্য। বিশেষ করে এসব মার্কেটে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোই বেশি। রিকশা বা ভ্যানচালক সহ বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষ কম দামে গরম কাপড় কেনার হিড়িক পড়েছে। পুরাতন কাপড়ের মধ্যে রয়েছে সোয়েটার, জ্যাকেট, কম্বল, গরম টুপি, চাদর, ব্লেজার, মাফলার, মোটা গেঞ্জি, সহ বিভিন্ন ধরনের গরম পোশাক। ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিদেশি পুরানো জ্যাকেট ও আবার ৮০ টাকা থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে মোটা গেঞ্জি, সোয়েটার, চাদর, তাদের পছন্দের পোশাক টিকিনতে পারায় খুবই আনন্দিত। নদীতে ট্রলার চালক আজগর আলি আক্ষেপ করে বলেন, শীতের তীব্রতা বেড়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কিংবা বেসরকারিভাবে কোনো ধরনের কম্বল সও গরম পোশাক পাইনি। ফুটপাতের দোকান থেকে ২৫০ টাকায় একটি জ্যাকেট কিনেছি। দিনমজুর বাবুর বলেন ২৫০ টাকায় পুরাতন একটি কম্বল কিনেছি, জলাবাড়ির গোবিন্দ লাল বিশ্বাস বলেন, এই ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতে রাজনৈতিক নেতারা শীতবস্ত্র বিতরণ করছে না। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের কাছে কম্বল চাইলে তারা বলেন নির্বাচনীয় আচরণ বিধি লঙ্ঘনের কারণে এ মুহূর্তে দেওয়া যাচ্ছে না। এ প্রচণ্ড শীতে সরকারি বা বেসরকারিভাবে গরিবদের জন্য কম্বল ও গরম শীতবস্ত্র বিতরণ করা খুবই প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ তীব্র শীতে শীতবস্ত্র বিতরণ না করলে চরম ভোগান্তিতে পড়বে ভুক্তভোগীরা। নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন সরকারি ভাবে শীত বস্ত্র বা গরম পোশাক আসেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আসতে পারে আসলেই যথাযথ সময় আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দুষ্ট ও অসহায় মানুষের মাঝে গরম পোশাক পৌঁছিয়ে দেব।