রাষ্ট্রীয় শোকের পরিবেশে ঢাকায় তৈরি হলো বিরল এক কূটনৈতিক মুহূর্ত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় শ্রদ্ধা জানাতে এসে মুখোমুখি হন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের এই দৃশ্য দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার জানাজার আনুষ্ঠানিকতার আগে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় এই সাক্ষাৎ হয়। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় অবস্থানকালে জয়শঙ্কর ও আয়াজ সাদিক পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ফেসবুক পাতায় তাদের সাক্ষাতের দুটি ছবি প্রকাশ করা হয়।
একই দিন দুপুরে খালেদা জিয়ার জানাজার আগে সার্কভুক্ত কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ ব্লকের একটি কক্ষে তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানের স্পিকার। ওই কক্ষেই একপর্যায়ে এস জয়শঙ্কর এগিয়ে গিয়ে সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং কুশল বিনিময় করেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, সাক্ষাতের সময় দুজনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল। তারা আলাদাভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও দেখা করেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানান।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে সাম্প্রতিক সময়ের বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, চলতি বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পরে মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের পর এটিই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের প্রথম সরাসরি যোগাযোগ বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার জানাজাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় আন্তর্জাতিক উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকেরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। শোকের এই আয়োজনে দুই চিরবৈরী দেশের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় আলোচনায় আসে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রশ্ন।