ঘণ কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। উত্তর-পূর্বের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে দক্ষিণের জনপদ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) কুয়াশা ভেদ করে বরিশালে সূর্যের দেখা মেলে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে। ওইদিন কর্মদিবস হলেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হননি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে থাকলেও ঘণ কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। রাতেও প্রচন্ড শীতের সাথে ঘণকুয়াশায় চারিদিক ঢেকে রয়েছে। গত প্রায় ১০ দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলে ঘণ কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিরূপ এই আবহাওয়ার প্রভাবে জনস্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে ক্রমেই সংকট বাড়ছে। নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত বিভিন্নরোগে ইতোমধ্যে অসংখ্য নারী, পুরুষ ও শিশু বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাশেদুল ইসলাম শেখ নামের এক ঠিকাদার মৃত্যুবরণ করেছেন। অপরদিকে ঘণ কুয়াশা ও ঠান্ডায় বরিশাল কৃষি অঞ্চলে বোরো বীজতলাসহ শীতকালীন সবজি চাষ চরম ঝুঁকিতে পরেছে। আবহাওয়া বিভাগ সূত্রে জানা গেছে-দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। যার একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। যে কারণে ঘণকুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে এবং কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।