ভারতসহ তিন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্কের বিলে সম্মতি ট্রাম্পের

এফএনএস আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশ: ৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
ভারতসহ তিন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্কের বিলে সম্মতি ট্রাম্পের

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও ইউরেনিয়াম আমদানিকারক দেশগুলোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো দেশের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে পারে এমন একটি নিষেধাজ্ঞা বিলে সম্মতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিলটি কার্যকর হলে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানান, ‘গ্রাহাম-ব্লুমেনথাল নিষেধাজ্ঞা বিল’ নামের এই প্রস্তাবে ট্রাম্প সমর্থন দিয়েছেন। বিলটির মূল লক্ষ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মস্কোকে আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করা।

বিলটি তৈরি করেছেন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। এতে বলা হয়েছে, যেসব দেশ জেনেবুঝে রাশিয়ার তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম কিনে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কঠোর শুল্ক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে। এই ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে ভারত। বর্তমানে রাশিয়ার তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে। নতুন বিলে সেই শুল্ক ৫০০ শতাংশে পৌঁছালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। একই সঙ্গে চীন ও ব্রাজিলও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।

বিবৃতিতে লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, কিন্তু পুতিন শুধু কথার আশ্বাস দিচ্ছেন, বাস্তবে রাশিয়ার সেনারা এখনও নিরপরাধ মানুষ হত্যা করছে। তার ভাষায়, “এটা সঠিক সময়ে নেওয়া পদক্ষেপ। রাশিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারদের ওপর চাপ বাড়ানো ছাড়া এখন আর কোনো বিকল্প নেই।”

গ্রাহাম আরও জানান, বুধবার তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে কয়েক মাস ধরে প্রক্রিয়াধীন এই বিল নিয়ে আলোচনা হয় এবং ট্রাম্প এতে সম্মতি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সপ্তাহেই মার্কিন কংগ্রেসে বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি শুরু হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রথমে বিলটি নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করা হবে। সেখানে পাস হলে যাবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সিনেটে অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর মিললেই এটি আইনে পরিণত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল পাস হলে শুধু রাশিয়া নয়, তার জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতেও বড় চাপ তৈরি হবে। তারা এটিকে বিশ্বজুড়ে নতুন এক অর্থনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা হিসেবেও দেখছেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, এই প্রস্তাব ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। এপি জানায়, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাও ট্রাম্পের সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সূত্র: এনডিটিভি