সাতক্ষীরা যেন এক ক্ষণজন্মা অভিভাবককে হারাল। না-ফেরার দেশে চলে গেছেন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বরেণ্য সমাজসেবক ড. দিলারা বেগম (৭৩)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার রাতে নিজ বাড়িতে রান্নার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে মাথা ঘুরে মেঝেতে পড়ে জ্ঞান হারান। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ড. দিলারা বেগম ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুর রহিমের (মরহুম) সহধর্মিণী। এই দম্পতি সাতক্ষীরার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জাগরণে আজীবন আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে গেছেন। অধ্যক্ষ হিসেবে অবসরের পর ড. দিলারা বেগম সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি), সচেতন নাগরিক কমিটি সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি অসংখ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। গভীর রাতেও তাঁর বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই প্রিয় শিক্ষকের এমন আকস্মিক প্রস্থানে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাতক্ষীরার সুধীমহল জানিয়েছেন, ড. দিলারা বেগম কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজসংস্কারক। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান এবং কর্মনিষ্ঠা সাতক্ষীরার মানুষ চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাঁর জানাজা ও দাফনের সময়কাল পরবর্তীকালে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।