প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সহায়তার ধারা এবং সমাধানের পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তার অর্থায়ন নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শিবিরে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ নিলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনো প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে না।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, গত বছর রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়ক হয়েছিল। তবে সংকটের গভীরতা বিবেচনায় আরও জোরালো বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি। তিনি বলেন, শিবিরে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান কোনো স্থায়ী সমাধান নয় এবং এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নানা ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি সুবিধা পাওয়া এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বড় হয়ে উঠছে, যা কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।”

বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতিও আলোচনায় আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, ভাসানচর থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ ছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, তাঁর পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি বলেন, “নির্বাচন পরিচালনায় আমরা একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” প্রথমবার ভোট দেওয়া ও নতুন ভোটারদের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সরকারের প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে