গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে

ফ্যাক্টর জাপা: দ্বি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

মো: ইমদাদুল হক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: | প্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ফ্যাক্টর জাপা: দ্বি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পাটি ও জামায়াতের দুর্গ বলে পরিচিত গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসন দখল নিতে সুন্দরগঞ্জে দ্বি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা ভোটারদের মুখে মুখে উচ্চারিত। তবে ভোটের মাঠ অনেকটা দীর্ঘদিন জামায়াতের দখলেই ছিলো। কিন্তু জাতীয় পাটির ডাকসাইটের ক্লিন ইমেজের নেতা মহাসচিব ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্বাচনে মনোনয়পত্র দাখিল করায় এই আসনের ভোটের চিত্র বদলে যেতে শুরু করেছে। আর বিএনপি প্রার্থী বলছেন মানুষ ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন । সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি বিজয়ী হবেন। তারা আর কারো প্রতিশ্রুতির কথা শুনতে চায় না । সুন্দরগঞ্জ আসনটি বরাবরেই ছিলো জাতীয় পাটির দুর্গ হিসাবে পরিচিত। আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে সুন্দরগঞ্জের ১৫ টি ইউনিয়নের ১২৩ টি ভোট কেন্দ্রে এবার ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। তার মধ্যে মহিলা ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৪ জন। ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতন হলেও অনেকেই এরশাদের লাঙ্গল মার্কাকে কাছে টেনে নিতে চান। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর রেজাউল মিয়া জানান, সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চল ও বিভিন্ন  ইউনিয়নের মানুষ স্বচ্ছ ভোটের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। তাদের আশা ফ্যাসিস্টদের কারনে দীর্ঘদিন তারা ভোট দিতে পারেনি। চরাঞ্চলের সেন্টার গুলোতে প্রভাব খাটিয়ে ভোটের বাক্স ভরিয়ে নিয়ে এমপি হয়েছেন। ভোটের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন । কিন্তু ভোট নিয়ে নিজেরা মোটাতাজা হয়েছে কিন্তু গ্রাম ও চরাঞ্চলের গরীব মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। সে কারনে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনটি আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। নীরিহ মানুষের নামে মামলা হামলা, জেল জুলুম ছাড়াও ওই সময়ে জামায়াত ও জাতীয় পাটি ছাড়াও অনেক মানুষকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। দিনের পর দিন কারাগারে থেকে তাদের সহায় সম্ভবল সব হাড়িয়ে পথে বসেছে অনেকেই। এই কথা মনে হলে সুন্দরগঞ্জের মানুষ অন্য রকম আবেগ প্রবন হয়ে যায়। কিন্তু ফ্যাসিষ্ট শাসন আর নেই-এই ভেবে এবার নতুন করে ভোট ভাবনা তাদের কাজ করছে।  এবার  ত্রয়োদশ নির্বাচন হবে ভোটারদের মনের আশা পুরনের ভোট । তবে এই আসনের এরশাদ ও জাতীয় পাটির একটি বড় অংশ ভোটের বাক্স হিসাবে রয়েছে জাপা প্রার্থীর পক্ষে। যাকে বলা হয় পকেট ভোট। পকেট ভোট আর জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ায় এলাকার ভোটারদের কাছে গর্বের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। তার  ক্লিন ইমেজ ও জাতীয় পর্যায়ে গণ মাধ্যমে বিশেষ পরিচিতি মুখ শামীম হায়দার পাটোয়ারী পরপর দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হাড়িয়ে জাতীয় পাটিকে আবারও সামনে নিয়ে আসেন সামনের কাতারে। তিনি বিশ্বাস করেন সাধারন মানুষের পাশে থেকে সুন্দরগঞ্জের অনেক উন্নয়ন মুলক কাজও করেছেন। কাজেই তাকে বাদ দিয়ে এবার নির্বাচনে কোন হিসাব হবে না । তবে তিনি বিশ্বাস করেন রাজনীতিতে হারজিৎ থাকবেই। নিয়ম নীতি মেনে ভোটের মাঠ দখলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও কম ছিলেন না এই আসনে।  জাতীয় পাটির দুর্গে হানা দিয়ে জামায়াতের বাক্সে ভোট নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মরহুম মওলানা আব্দুল আজিজ। তখন থেকেই সুন্দরগঞ্জ আসনে জামায়াত মাথাচাড়া দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে শুরু করে। তার ফলশ্রুতিতে জামায়াতের নেতাকর্মী ও ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমান। এবার জামায়াতে ইসলামী মাজেদুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় শক্ত ভাবে তিনি ভোটারদের মন জয় করতে দীর্ঘদিন ধরে বৈঠক ,সভা, সমাবেশ করে আসছেন। কারাগারে ছিলেন দীর্ঘ সময়। সে কারনে জামায়াতের ইমেজ এই আসনের ভোটারদের কাছে কম নয়। অন্যদিকে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পেয়েছেন খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন , জনগণ অধীর আগ্রহে ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন । সরকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারলে ও সুষ্টু ভোট হলে আশা করি ধানের শীষ বিজয়ী হবে। তবে নেতাকর্মীরা বলেন তিনি থাকেন ঢাকায়। সুন্দরগঞ্জে আসেন আর যান। দল গোছানোর কাজে তাকে পাওয়া যায়নি বলে নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ। তাছাড়া বিএনপির অভ্যান—রিন কোন্দল,নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ক্ষোভ ও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলীয় কোন্দল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলের ত্যাগী নেতারা অনেকেই বলছেন দীর্ঘদিন  মাঠে দল গুছিয়ে রাখতে জেল জুলুম খেটেছি কিন্তু মুল্যায়ন করা হয়নি। অবশেষে  এবারও আসনটি বিএনপির হাত ছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ভোটের মাঠ বদলে গেছে বলে জানান স্থানীয় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা । গ্রামে গ্রামে ভোটের মাঠে ঘুরে দেখা গেছে ত্রয়োদশ নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয়ার আগ্রহ থাকলেও নিরাপত্তা জনিত কারনে অনেকেই আবার ভোট সেন্টারে যেতে চান না । তবে মানুষের মুখে মুখে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান ও জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নাম শোনা যায় বেশ জোরে শোরেই। যে কারণে আগামী নির্বাচনে জাপা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাড়ায় হাড্ডা-হাড্ডি দ্বি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে